শরীয়তপুর মাদারীপুর ও ঘাটাইল মুক্ত দিবস আজ

মুক্তিকামী জনতার সম্মুখযুদ্ধ আর প্রতিরোধের মুখে একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর মুক্ত হয় শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল। এদিন জয় বাংলা সেস্নাগানে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। মুক্ত দিবস উপলক্ষে এলাকাগুলোয় নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

শরীয়তপুরে গড়ে ওঠে জনতার প্রতিরোধ : মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই আর মুক্তিকামী জনতার প্রতিরোধের মুখে শরীয়তপুরে ১০ ডিসেম্বর পতন হয় হানাদার বাহিনীর। এরপর এখানে হানাদার বাহিনীর কোনো উপস্থিতি বা কার্যক্রম ছিল না। তবে এর আগে তারা আংগারিয়া মধ্যপাড়া, উত্তর-দক্ষিণ মধ্যপাড়া, ঝালোপাড়া, কাশাভোগ, নীলকান্দি, আংগারিয়া, ধানুকা, কোটাপাড়া ও বর্তমান জেলা প্রশাসকের বাড়ি এলাকায় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ চালায়। গণহত্যার শিকার অধিকাংশই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। আর ১৮১ জন নারী-পুরুষকে মাদারীপুর এআর হাওলাদারের জুট মিলে নিয়ে যায় তারা। এর মধ্যে নারীদের ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

মাদারীপুরে যুদ্ধ হয় একটানা ৩ দিন ২ রাত : সমাদ্দার এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে টানা ৩ দিন ২ রাতের  রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ১০ ডিসেম্বর মুক্ত হয় মাদারীপুর। এই যুদ্ধেই শহীদ হন জেলার সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। জেলার সদর, শিবচর, রাজৈর ও কালকিনিতে অসংখ্য গণহত্যা চালালেও দু-একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও আজও গণকবরগুলো সংরক্ষণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সদ্য নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে টানানো হয়নি বীর শহীদদের তালিকা।

ঘাটাইলে বিশেষ বীরত্ব দেখায় কাদেরিয়া বাহিনী : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয় ১০ ডিসেম্বর। এখানে কাদেরিয়া বাহিনী বিশেষ বীরত্বের অবদান রাখে। এ বাহিনীর নেতৃত্বে যমুনা নদীতে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়। এ সময় মুক্তিসেনারা বিপুল গোলাবারুদ ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কব্জা করে মুক্তিযুদ্ধের নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।