জনপ্রিয় উপস্থাপিকা শ্রাবণ্য তৌহিদা। ২০১৫ সাল থেকে ক্রিকেট বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ক্রিকেট ম্যানিয়া, ক্রিকেট এক্সট্রা, চ্যাম্পিয়ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫’সহ একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে দর্শক নন্দিত হয়েছেন তিনি। ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’। এই আসরের টুর্নামেন্টগুলোতে মাঠ ও টিভি পর্দা দুই মাধ্যম থেকে সরাসরি উপস্থাপনা করতে যাচ্ছেন শ্রাবণ্য। বিপিএল উপস্থাপনা’সহ নানা প্রসঙ্গে শ্রাবণ্য তৌহিদা কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে।
কেমন আছেন?
এই তো ভালো।
শুনলাম বিপিএল উপস্থাপনা করতে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ। তৃতীয়বারের মতো বিপিএল উপস্থাপনা করতে যাচ্ছি।
এবার কি শুধুই মাঠ থেকে নাকি স্টুডিওতেও দেখা যাবে আপনাকে?
এবারের বিপিএলে মাঠে এবং স্টুডিওতে দুই জায়গাতেই আমি পারফর্ম করব। প্রতি ম্যাচে আমাদের দুটি করে শো থাকে। একটি মাঠে, অন্যটি স্টুডিওতে। আমি একদিন মাঠে থাকব। আরেকদিন স্টুডিওতে।
ক্রিকেট বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করতে কেমন লাগে?
ক্রিকেট বিষয়ক শো করতে সব সময় ভালো লাগে কারণ এটা চ্যালেঞ্জিং। এখন বেশ এনজয় করি। কারণ চ্যালেঞ্জ নিতেই আমি অভ্যস্ত।
উপস্থাপনা ভালো করার গোপন মন্ত্র কি?
খেলা দেখি, খেলাটা পুরোপুরি দেখার চেষ্টা করি। খেলা বিষয়ক পড়ালেখার চেষ্টা করি। প্রত্যেক খেলার আগেই আমি হোমওয়ার্ক করে নিই। খেলা বিষয়ক দেশি-বিদেশি ওয়েব সাইটগুলো ঘেঁটে দেখি। সেখান থেকে তথ্য জানি। ক্রিকেট সম্পর্কে সব সময় আপডেট থাকার চেষ্টা করি।
উপস্থাপনার সময় দেশ-বিদেশের সেলিব্রেটি ক্রিকেটারদের সাক্ষাৎকার নেন। ওই সময়টা কেমন উপভোগ করেন?
এটা একদিকে যেমন ইন্টারেস্টিং, তেমনি আবার চ্যালেঞ্জিংও। কারণ দেশি-ক্রিকেটারদের পাশাপাশি যেহেতু বিদেশি ক্রিকেটারও থাকেন। ফলে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন করতেও ভাবতে হয়। যাতে অসংলগ্ন কিছু না ঘটে। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় অনেক কিছু লক্ষ রেখে কথা বলতে হয়। ফলে প্রস্তুতি নিয়েই আসি যাতে আমার তরফ থেকে কোনো ভুল না হয়।
উপস্থাপনা দেখে আপনার ভক্ত বা কাছের লোকজন কি বলে?
এখন তো সবাই ভালো বলে। আগে যারা সমালোচনা করত তারাও এখন প্রশংসা করে। আর আমি তো মনে করি আগের চেয়ে এখন আমি অনেক ম্যাচিউরড।
উপস্থাপনা জীবনের পাঁচ বছর পেরিয়ে এসেও আপনার কোন বিষয়গুলো আরও উন্নত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
আসলে তো আত্ম উন্নয়নের শেষ নেই। প্রতিনিয়তই মনে হয় ওই ওই জায়গাগুলো আরও ভালো করা যেত। ওই প্রশ্নটা হয়তো আরেকটু ভেবে বলা উচিত ছিল। এ রকম নানা কিছুই তো কাজ করে। ভালোর কোনো শেষ নেই। আর আমি কখনোই নিজের কাজে সন্তুষ্ট থাকি না। আমি সব সময় চেষ্টা করি কী করে আরও ভালো করা যায়।
বিপিএলের মতো বড় বড় প্রোগ্রামে উপস্থাপনা করতে গিয়ে অনেকেই ভাইরাল হওয়ার জন্য নানা কাণ্ড ঘটায়। এমন প্রবণতা আপনার ভেতরেও কাজ করে কিনা?
আমি কখনোই ভাইরাল হওয়ার জন্য নেতিবাচক কিছু করি না। ভাইরাল হওয়ার জন্য নেতিবাচক কিছু করার ইচ্ছে আমার নেই। নেতিবাচক জনপ্রিয়তাকে আমি অপছন্দ করি। আমি ইতিবাচক মানুষ। বিপিএলের উপস্থাপনাতেও চেষ্টা করব আমার পোশাক যেন মার্জিত থাকে। এমনকি কাউকে ভুলভাল কোনো প্রশ্নও করতে চাই না যেটা আমাকে নেতিবাচকভাবে ভাইরাল করে দেবে। এই বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকার চেষ্টা করব।
আর কী কী কাজ করছেন?
সম্প্রতি একটি রিয়্যালিটি শো’র কাজ শেষ করলাম। সিঙ্গার ফ্যামিলি এন্ড ফান শো। এ ছাড়া রেগুলার শো’গুলো চলছেই। এখন ক্রিকেট নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এরপর এটিএন বাংলার আরেকটি শো উপস্থাপনা করব। বিপিএলর পরেই সেটার কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব।