বৃহস্পতিবার বরগুনার তালতলি উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনা জেলা প্রশাসক পঞ্চমবারের এই জোছনা উৎসবে বৃহৎ আকারের আয়োজন করেছে।
জেলার প্রধান তিনটি নদী পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় নবগঠিত তালতলি উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের স্নিগ্ধ বেলাভূমিতে জেগে ওঠা চরের নাম ‘শুভসন্ধ্যা’। একদিকে সীমাহীন সাগর; আরেকদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট টেংরাগিরি। একদিকে দীর্ঘ ঝাউবন, তিন তিনটি নদীর বিশাল জলমোহনা; আরেকদিকে সীমাহীন সাগর। সব মিলিয়ে নদ-নদী আর বন-বনানীর এক অপরূপ সমাহার- শুভসন্ধ্যা সৈকত!
সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝাউবন। দখিনের খোলা বাতাস ঝাউবন স্পর্শ করে যাচ্ছে পরম আবেশে। খোলা বাতাসের ছোঁয়ায় উড়ন্ত চুলের মতো দুলছে ঝাউগাছগুলো। জন্ম থেকেই সমুদ্রের খোলা বাতাস গায়ে মেখে ঝাউগাছগুলো এখন অনেক বড় হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের আছড়ে পড়া ঢেউ আর ঝাউগাছের মাঝখানে শূন্য বালুরাশি। দৃষ্টিনন্দন এক সৈকত- শুভসন্ধ্যা!
প্রকৃতির এই অপরূপ বেলাভূমিতেই অনুষ্ঠিত হবে জোছনা উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এ উৎসবে যোগ করা হয়েছে নানা আয়োজন। উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুভ সন্ধ্যা সৈকতে শুরু হয়েছে বাহারি পণ্যের পসরা সাজানোর প্রস্তুতি।
জোছনা পাগল হাজারো মানুষের জন্য থাকছে গান, কবিতা পাঠ, পুঁথিগান, পুতুল নাচ, যাদু প্রদর্শনী, যাত্রাপালা, হয়লা গান, নৃত্য, ফানুস ওড়ানো।
অভিজ্ঞতা আর স্মৃতিকে সমৃদ্ধ করতে প্রিয় স্বজনদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন তালতলির শুভসন্ধ্যা সৈকতে বরগুনার জোছনা উৎসবে। শুভ সন্ধ্যার পাশেই আশার চরে মৎস্যজীবীদের বসবাস। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, গভীর অরণ্য, বিশাল শুঁটকিপল্লী রয়েছে আশার চরে। আশার চরের কাছেই রয়েছে তালতলির বিশাল রাখাইন পল্লি। বঙ্গোপসাগরের তীরে এ পল্লিতে কুপিবাতি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁকে কাপড় বোনার কাজ। তাঁতশিল্প ছাড়াও রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দিরও অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। এ ছাড়া রয়েছে টেংরাগিরি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সোনাকাটা ইকোপার্ক।
যেভাবে বরগুনা থেকে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে যাবেন: জোছনা উৎসবের জন্য শুভসন্ধ্যার উদ্দেশে বরগুনা থেকে একাধিক লঞ্চ ছেড়ে যাবে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়। কেবিন ভাড়া সিঙ্গেল-১,২০০/, ডাবল-২,০০০/ ডেক-৩০০/(আসা-যাওয়া)। বরগুনা থেকে শুভসন্ধ্যা যেতে সময় লাগবে কমবেশি আড়াই ঘণ্টা। দুপুরে লঞ্চযাত্রীদের জন্য রয়েছে খিচুড়ির ব্যবস্থা।
সড়ক পথেও যাওয়া যাবে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে। ১. সড়কপথে বাস/মোটরবাইকে গোলবুনিয়া, চালতাতলী, লতাকাটা হয়ে ট্রলারযোগে তালতলি। ২. তালতলি থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরবাইকে শুভসন্ধ্যা সৈকত (ভাড়া জনপ্রতি ৫০/টাকা)।
পটুয়াখালী থেকে যেতে পারবেন বাসযোগে সরাসরি তালতলি (ভাড়া-১৫০/)। তালতলি থেকে মোটরবাইকে নলবুনিয়া শুভ সন্ধ্যা সৈকত (ভাড়া জনপ্রতি-৫০/)।
বরিশাল থেকে যেতে পারবেন রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে সরাসরি তালতলি (ভাড়া-২০০/)।
ঢাকায় গাবতলী এবং সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি বরগুনার উদ্দেশ্যে সকালে এবং বিকেলে বাস ছেড়ে আসে। ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। তাছাড়া ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন বিকেল ৫টায় এবং ছয়টায় দুটি দোতলা লঞ্চ ছেড়ে আসে। ভাড়া- ডেক ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২২০০ টাকা।