ঢাবি সমাবর্তনে চ্যান্সেলরের বক্তব্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল বিজয়ী জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাকাকি তাজাকি। নিজের বিষয়ের একজন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপকের বক্ত ব্য শুনতে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার।

তার ওপর রাষ্ট্রপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবদুল হামিদের বক্তব্য শোনার পর মনে হয়েছে এইবার সমাবর্তনে আসাটা সার্থক হয়েছে। না এলে বরং আফসোস করতে হতো। রাষ্ট্রপতি কয়েকটি তেতো কথা বলেছেন যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদাসীন অনেককেই হয়তো আহত করেছে। কিন্তু কথাগুলো যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী। প্রথমত, যে কথাটি তিনি অত্যন্ত শক্তভাবে বলেছেন সেটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রাম নিয়ে। তিনি বলেছেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন যেন দিনে সরকারি আর রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় বলেছেন, এটি চলতে পারে না। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ধরনের ছাত্রছাত্রী থাকতে পারে না। সত্যিই তাই। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞার সঙ্গে যায় না। মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর স্কুল কলেজের শিক্ষকদের মাঝে একটি মৌলিক পার্থক্য হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেবলই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি মৌলিক গবেষণা করেন এবং গবেষণা থেকে লব্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দেন। শিক্ষকরা যদি দিনরাত কেবল ক্লাস নিতে থাকেন তাহলে গবেষণা করবেন কখন? তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন শিক্ষকদের মনোযোগ এখন টাকা কামানোর দিকে যেটা কাম্য নয়। সত্যি বলতে কি বিজনেস ফ্যাকাল্টি বিজনেসের নামে শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয় না সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই ডুবিয়েছে। তারা এবং তাদের ফ্যাকাল্টি হয়তো হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা বৈষম্যও সৃষ্টি করেছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির অবকাঠামোর দিকে তাকানÑদেখবেন বিজনেস ফ্যাকাল্টির জৌলুশ খুবই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ফ্যাকাল্টি ছাড়াও অন্যান্য ফ্যাকাল্টিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আছে। তাদের মাঝে, বিশেষ করে শিক্ষকদের মাঝে, অধিক অর্থ উপার্জনের এক ধরনের চাপ অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। আসলে বিবিএ কিংবা এমবিএ বিষয়টাই এমন যে তাদের দৃষ্টিই হলো বাইরের জৌলুশের দিকে আর তাদের কাজই হলো নানাবিধ trick ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন ও জৌলুশ বাড়ানো। বিবিএ আর এমবিএর উত্থানের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে আদর্শের পতনের একটি সম্পর্ক আছে বলে আমার ধারণা।

আমি জানি না বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের একটি সাবজেক্ট কীভাবে কেবল কম বিনিয়োগে বেশি লাভবান হওয়া যায় তার নানা ট্রিকস শেখানোর ওপর ভিত্তি করে হয়। শুনেছি এদের নাকি পদার্থবিজ্ঞানও কিছুটা পড়ানো হয়। আমার জানামতে, আমাদের বিভাগের আমার সহকর্মী ওখানে পড়িয়েছেন। এক সময় এই ফ্যাকাল্টিতে কেউ পড়তে চাইত না আর এখন সেরা ছাত্ররা এখানে পড়ার জন্য পাগলপ্রায়। ইংরেজি মাধ্যমের অনেক ছাত্রছাত্রীকেই আমি চিনি যারা পদার্থবিজ্ঞানে খুবই ভালো। ওই ভালো ছাত্রদের অধিকাংশের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়বে। অথচ আমি নিশ্চিত জানি ওদের পদার্থবিজ্ঞান কিংবা মৌলিক বিষয়ে পড়লে তাদের জীবনে আরও সফলতা আসত। এইদিক থেকে বিবিএ-এমবিএর মতো বিষয়ের উত্থান মানে মেধাবীদের পতন। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ওয়েবসাইট একটু ঘুরে আসুন। বর্তমানে আমাদের ওয়েবপেজের অবস্থা যদিও করুণ, তারপরও আমাদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ও রসায়ন বিভাগসহ বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকটি বিভাগের কিছু শিক্ষকের ইনফরমেশন, তাদের নিজ নিজ ওয়েবপেজ মোটামুটি পাওয়া যায় এবং বেশ আপডেটেড। প্রকৌশল অনুষদের অবস্থা বেশ করুণ। কলা এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অবস্থাও বেশ করুণ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি করুণ-ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অবস্থা! এটাকে মানুষজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ঢ়ড়ংয জায়গা ভাবে। এখানে ভর্তি হতে পারাটা ছাত্রছাত্রী তো বটেই এমনকি তাদের পিতামাতাদের কাছেও অনেকটা আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। সেই ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট এত করুণ কেন হবে? সেখানে কেন সব শিক্ষকের হালনাগাদ ইনফরমেশন নেই? গুগল স্কলার ঘেঁটে কারও তেমন কোনো প্রোফাইল পাইনি। দুঃখের বিষয় হলো অধিকাংশ শিক্ষকেরই পিএইচডি নেই। কারও পোস্ট-ডক বা গবেষণা নেই বললেই চলে। আসলে এইসব হবে কীভাবে? দিবানিশি যদি সরকারি আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠ দিয়ে বেড়ান তাহলে গবেষণা করার সময় তো থাকবে না। এরা নাকি আবার নতুন একটি ডিগ্রি চালু করছে, যার নাম  ডক্টর অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন যাকে সংক্ষেপে উইঅ বলে। এই ডিগ্রি অর্জন করলেও কেউ নামের আগে অলংকারস্বরূপ ড. লিখতে পারবে যা ডক্টর অফ ফিলোসফি ডিগ্রির সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করবে। 

দ্বিতীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উনি আলোকপাত করেছেন সেটি হলো, ডাকসু নির্বাচন। তিনি বলেছেন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা শুনেছেন যা উনার ভালো লাগেনি। অনেক বছর পর নির্বাচন হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু এইরকম নির্বাচন কাম্য নয়। তিনি বলেছেন ভবিষ্যতে যেন ভালো নির্বাচন হয়। তিনি আরও বলেছেন, ডাকসু নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের সম্বন্ধে নানা কথা তিনি শুনতে পান যা তার কাছে ভালো লাগে না। নির্বাচিত সংসদ ছাত্রদের ভালোমন্দ নিয়ে কিছু করে না এটাও তার কাছে ভালো লাগে না। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তার কাছে গিয়েছে অথচ এগুলো ডাকসু নেতাদের বলা উচিত ছিল। কিন্তু তারা (ডাকসু নেতারা) এর মধ্যে নেই। তিনি বলেন, ‘তাদের ব্যাপারে এমন সব কথা শুনি যা আমার ভালো লাগে না’। ডাকসু নেতাদের ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করায় গুরুত্বারোপ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এখন তাদের নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। এর বেশি কিছু বলে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করতে চাই না’। আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, ‘ডাকসু নেতাদের এমন কিছু করা উচিত যাতে সাধারণ ছাত্রদের কল্যাণ হয়’। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনের সময় ওঠা অসংগতির প্রতি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য কর্র্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তারা সেটা করেছে সে জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তবে নির্বাচনের সময় কিছু কিছু কথা বা অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শুনেছি। আমি আশা করব ভবিষ্যতে যখন আবার ডাকসু নির্বাচন হবে তখন যাতে করে আরও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।’ তার এইসব কথা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এছাড়া তিনি আরও বলেন ‘বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ডিপার্টমেন্ট, ইভনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স ও ইনস্টিটিউটের ছড়াছড়ি। নিয়মিত কোর্স ছাড়াও এইসব বাণিজ্যিক কোর্সে প্রতি বছর হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী পাস করে বের হচ্ছে। এইসব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে এই নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এক শ্রেণির শিক্ষক ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তারা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আবার কিছু কিছু শিক্ষক নিয়মিত কোর্সের ব্যাপারে কিছুটা উদাসীন কিন্তু ইভনিং কোর্স বা ডিপ্লোমা কোর্স কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম পড়ানোতে তারা খুবই সিরিয়াস। কারণ এগুলোতে নগদ প্রাপ্তি থাকে। মনে রাখবেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলে জনগণের টাকায় আর জবাবদিহিও জনগণের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া প্রতিটি পয়সা সততার সঙ্গে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপাচার্য ও শিক্ষকদের।’ এইখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের বরাদ্দের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু যে টাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হয় সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। বিশ্ববিদ্যালয়কে যা দেওয়া হয় সেটা দিয়ে বড়জোর শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বছরে যেই পরিমাণ টাকা সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটা বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের ব্যয়ের থেকেও কম। আমি জানি না তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের গণরুম ও গণবারান্দায় থাকার কথা জেনেছেন কি না। বিশ্বে দ্বিতীয় আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া যাবে না যেখানে তাদের ছাত্ররা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মতো মানবেতর জীবনযাপন করে। এটা একটা রেকর্ড। বিশ্বে এত স্বল্প বরাদ্দ দিয়ে একটি দেশের একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় চলে এমন নজির দেখতে পাওয়া যাবে না। এত স্বল্প বরাদ্দেও এত ভালো মানের ছাত্রছাত্রী তৈরি করতে পারা যায়? এতদসত্ত্বেও আমাদের একান্ত বাধ্যগত ছাত্র শিক্ষকরা ন্যূনতম স্বাভাবিক ছাত্রজীবনের নিশ্চয়তার দাবি জানান না। উল্টো ছাত্রদের কম বেতন দেওয়া বা বিনে পয়সায় পড়া ও শিক্ষকদের বেশি বেতনের খোটা খেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দের দিক দিয়ে ও শিক্ষকদের বেতনের দিক দিয়ে আমরা ভারত ও পাকিস্তান থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে। তাহলে দেশ উন্নত হবে কীভাবে? একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় মানে ছাত্ররা ন্যূনতম থ্রি-স্টার হোটেলে থাকার মতো জীবনযাপন করে। এরপরও আমরা র‌্যাংকিং নিয়ে কথা বলি।

 

রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অভিভাবক ও অ্যাকাডেমিক লিডার। কিন্তু কোনো উপাচার্য ও শিক্ষকের কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল কাজ কী তা ভুলে গিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু জ্ঞান দান করা নয়, বরং অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোই হচ্ছে আসল কাজ। গবেষণা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ। গবেষণার মান নিয়েও এখন নানা কথা ওঠে। পদোন্নতির জন্য গবেষণা নাকি মৌলিক গবেষণা তাও এখন বিবেচনায় নিতে হবে। অনেক বিভাগেই অন্যান্য পদ যেমন প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক ইত্যাদির চেয়ে অধ্যাপকের সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক শিক্ষকই প্রশাসনিক পদ পেয়ে নিজে যে একজন শিক্ষক সেই পরিচয় ভুলে যান।’ যতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের জার্নাল থাকবে এবং সেইসব জার্নালের দায়িত্বে নিজেরা থাকবেন আর নিয়ম থাকবে সেখানে আর্টিকেল জমা দিতে হলে অন্তত একজন লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হতে হবে, ততদিন গবেষণার নামে ময়লা আবর্জনা প্রকাশিত হতেই থাকবে। আর এইসব আবর্জনা দেখিয়েই অধ্যাপক হতে থাকবেই। এইসব জার্নালের কারণে ভালো গবেষণা করার যেই চাপ অনুভূত হওয়া দরকার সেটা শূন্য হয়ে যায়। ভালো মানের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা আর নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতির জন্য তৈরি জার্নালে প্রকাশনাকে যদি একই সমান ধরা হয় তাহলে কোন বোকা ভালো মানের গবেষণার জন্য অতিরিক্ত কাজ করবে? সারা পৃথিবীতে যারা গবেষণা করে তাদের গবেষণার মেরিট দেখে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর আমাদের এখানে বেতনের সঙ্গে গবেষণা ভাতা নামে সবাইকে একটা ষঁসঢ় ংঁস দেওয়া মানে যোগ্য গবেষকদের বঞ্চিত করা। যেই সমাজে ভালো খারাপ সবাইকে এক সমান ধরে বিবেচনা করে সেই সমাজে ভালো মানুষ তৈরি হবে না।

 

রাষ্ট্রপতির ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বক্তৃতায় তিনি স্বভাবসুলভ হাস্যরসাত্মক (রিঃঃু) বক্তব্য রাখেননি। তার প্রতিটি কথাই ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্র্তৃপক্ষ তার মেসেজ গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং তদনুসারে পদক্ষেপ নেবেন যেন আগামী সমাবর্তনেও রাষ্ট্রপতিকে একই কথা বলতে না হয়। এগুলো করলে মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে বলে আমি মনে করি।

লেখক

অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়