নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে দুই যমজ ভাইসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা নদীর ভাটি বন্দর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই যমজ ভাই ও অপরজন সবাই উপজেলার মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়–য়া আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) তারা যমজ দুই ভাই অন্যজন আবির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা মোগরাপাড়া চৌরাস্তার বাড়ি মজলিস এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, আরিফিন, আশিকিন, আবির এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিস গতকাল রবিবার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পরে তারা স্কুলে না গিয়ে চারজন মিলে মেঘনা নদীর ভাটি বন্দর কাশবনে বেড়াতে যায়। পরে ৪ জন মিলে নদীতে গোসল করতে নামলে ফারিস বাদে তিনজন নদীতে তলিয়ে যায়।
ফারিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, তারা ৪ জন মিলে নদীতে নেমে যখন গোসল করছিল তখন তাদের পাশেই মদিনা-৪ নামে একটি ব্লাকহেড ভেড়ানো ছিল। হঠাৎওই ব্লাকহেডটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালু করলে পানিতে তাৎক্ষণিক তীব্র স্রোত তৈরি হয়। এতে স্রোতের টানে তিনজন নদীর অনেক মাঝে চলে যায় এবং মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায়। ফারিস কিছুটা কাছাকাছি থাকায় স্থানীয় এক নারী নদীতে নেমে তাকে উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে সোনারগাঁও ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারে নামে। তাদের সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা একটি ডুবুরি দলও যোগ দেয়। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ডুবুরি দল যমজ দুই ভাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পরে সোয়া ৫টার দিকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া আবিরকে উদ্ধার করা হয়। নিহত ২ যমজ ভাই বেঁচে যাওয়া ফারিসের আপন চাচাতো ভাই।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, আমাদের তিনজন ডুবুরি ও ফায়ার সার্ভিসের অন্য সদস্যরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পানিতে ডুবে যাওয়া তিন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে। লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।