প্রতিবেশগত ঝুঁকি নির্ণয়

সুন্দরবনে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল

প্রতিবেশগত হুমকির মুখে থাকা সুন্দরবনে তিন দিনের পরিদর্শন শুরু করেছে জাতিসংঘের যৌথ মিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কো) ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির বর্তমান ঝুঁকির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মোংলার বনবিভাগের ফুয়েল জেটি থেকে গতকাল বুধবার দুপুরে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলটি বনবিভাগের নৌযান বনবিলাসে উঠে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে যায়। সঙ্গে রয়েছেন বনবিভাগের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরাও। আগামীকাল শুক্রবার তাদের বন থেকে ফেরার কথা রয়েছে। ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) একটি যৌথ মিশনের দুজন পুরুষ ও দুই নারী পরিবেশবিদ এ তিন দিনে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইউনেস্কোর নয়াদিল্লি অফিসের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফর ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের মিস্টার গাই ব্রুক, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের অ্যাকান নাকামুরা, আইইউসিএনের এলিনা অসিপভা ও অ্যান্ড্রু হোয়াইট। এ পরিদর্শনের বিষয়ে তারা ফিরে এসে মন্তব্য করবেন বলে জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের এ যৌথ মিশনটি সুন্দরবন পরিদর্শনের পাশাপাশি বনের আশপাশে অবস্থিত শিল্প কলকারখানা বিশেষ করে রামপালের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বরগুনার তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব মূল্যায়ন করবেন। এছাড়াও মোংলা সমুদ্রবন্দরের পাশের পশুর চ্যানেলসহ অন্যান্য নদী খননের ফলে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির ওপর প্রতিবেশগত যে বিরূপ প্রভাব পড়বে তাও পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করবেন। এই প্রতিনিধিদলের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির ওপর প্রতিবেশগত হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

এদিকে এই প্রতিনিধিদলের সুন্দরবন পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বনবিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ সময়ে বনে অবাঞ্ছিত লোকজনের প্রবেশ ও সব বনজ-জলজ সম্পদ আহরণ বন্ধ রেখেছে বনবিভাগ।