মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে সরকার : ফখরুল

রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে পদ্ধতিগতভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সরকার একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাকে কারাবন্দি করে রেখেছে সরকার। গতকাল বুধবার গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত

এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় গত ১০ বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছে বিএনপি। এতে খালেদা জিয়ার ২৭টি মামলার সর্বশেষ অবস্থার পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে থাকা মামলার সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ছবি এবং বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাসহ বিভিন্ন আলোকচিত্র দেওয়া হয়েছে।

সভায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৫টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া গত দশ বছরে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে গুম ও খুন হওয়া ২৭টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কূটনীতিকদের মধ্যে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকার বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চলে ‘মুসলিম হত্যা’ নিয়ে কথা বলেন।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল দাবি করে বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির অন্তত ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দলটির তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে নারী, শিশু ও গণমাধ্যমের অধিকার খর্ব হওয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেশের জনগণ লক্ষ করছে, গত দশ বছরে শুধু ভিন্নমত এবং ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা পোষণ করার কারণে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষকে মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১৪টি। ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সরকার এবং আওয়ামী লীগের হাতে মারা গেছেন ১ হাজার ৫২৬ জন। গুম হয়েছেন আমাদের হিসাব মতে, বিএনপির ৪২৩ জনসহ সর্বমোট ৭৮১ জন।

প্রকৃত রিপোর্ট না দিয়ে মনগড়া রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিএসএমএমইউ : মির্জা ফখরুল বলেন, যতটুকু জানি তার যে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল, সেই মেডিকেল রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত আসেনি। আমরা যেটুকু জানি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল সেই রিপোর্ট বাদ দিয়ে এখন মনগড়া একটি রিপোর্ট দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বিএসএমএমইউ। খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাগারে আটকে রাখার ব্যবস্থা করছে সরকার। এতে করে তার যে সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকার আছে সেটা চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।