এই দিনে

১৩ ডিসেম্বর

শিক্ষাবিদ, লেখক কবীর চৌধুরী ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রম্নয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খান বাহাদুর আব্দুল হালিম চৌধুরী এবং মাতা উম্মে কবীর আফিয়া চৌধুরী। তার পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার গোপাইরবাগ গ্রামে। কবীর চৌধুরী ১৯৩৮ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৪০ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ পাস করেন।  এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (সম্মান) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৭-৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকান সাহিত্য অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৬৫ সালে সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কবীর চৌধুরী পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ, রাজশাহী সরকারি কলেজ, ঢাকা কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন।  বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক এবং পরে মহাপরিচালক ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর কবীর চৌধুরী বাংলাদেশের ন্যাশনাল এডzকেশন কাউন্সিলের প্রথম সদস্য-সচিব পদে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালে তিনি শিক্ষা ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে যোগ দেন। তিনি ১৯৭৪ সালে সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। কবীর চৌধুরীকে ১৯৯৮ সালে জাতীয় অধ্যাপকের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।  কবীর চৌধুরীর রচিত, সম্পাদিত ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতেরও বেশি। তিনি ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং অনুবাদও করেছেন উভয়মুখী। তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বসহ নানা প্রগতিশীল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কবীর চৌধুরী স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, এশিয়াটিক সোসাইটির ট্যাগোর পিস অ্যাওয়ার্ডসহ দেশে ও বিদেশে বহু সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।