ব্রেক্সিট জটিলতাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে আগাম নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ব্রেক্সিট, নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার মতো আরেকটি গণভোট– এই দুইয়ের মধ্য থেকে একটিকে বেছে নিতে ভোটের লাইনে দাঁড়ান যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় ৭টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা) ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৬৫০টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষের পরই শুরু হয় গণনা। আজ সকালে প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ আসনের ফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের আশঙ্কা, কনজারভেটিভ বা লেবার পার্টির কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকে এগোতে পারে যুক্তরাজ্য।
গত মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায় বরিস জনসন এগিয়ে আছেন। তবে দুই সপ্তাহ আগে করা জরিপে করবিনের সঙ্গে তার যে ব্যবধান ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী এখন ৬ থেকে ১৫ পয়েন্ট এগিয়ে আছে কনজারভেটিভরা। তবে প্রভাবশালী জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউগভের অনুমান অনুযায়ী, কনজারভেটিভদের ৪৩ শতাংশ পয়েন্ট অপরিবর্তিত রয়েছে। দুই ধাপ এগিয়ে লেবারের অবস্থান ৩৪ শতাংশ। কনজারভেটিভদের সম্ভাব্য ৩৩৯ আসনের বিপরীতে লেবার পার্টি ২৩১টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে তাদের জরিপে উঠে এসেছে।
ব্রেক্সিট নিয়ে পরিস্থিতি এতটাই জটিল অবস্থায় পৌঁছেছিল যে প্রায় শতবছরের ঐতিহ্য ভেঙে ডিসেম্বরে ভোটের আয়োজন করতে হয়েছে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। পার্লামেন্টে তিনবার ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করাতে ব্যর্থ হয়ে টেরিজা মের পদত্যাগের পর ক্ষমতায় আসা জনসনকেও কম গলদঘর্ম হতে হয়নি। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটে ব্যর্থ হয়ে তাই তাকে ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হয়েছে।
জনসনের ভাষায়, যুক্তরাজ্যের বিদায় (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে) এবং অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলার মাধ্যমে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের পথ দেখাবে এই নির্বাচন।
‘ব্রেক্সিট সম্পন্ন করো’ (গেট ব্রেক্সিট ডান) সেস্নাগানে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া জনসনের জয়ের ব্যাপারে আভাস মিলেছে বেশ কয়েকটি মতামত জরিপে।
গত বুধবার ব্রিটেনের কয়েকটি ভোট জরিপকারী সংস্থা তাদের মতামত জরিপের ফল ঘোষণা করেছে। এসব জরিপের সব কটিতেই দেখা গেছে, বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টির জনসমর্থন গতবারের চেয়ে কিছুটা কমলেও এখনো লেবার পার্টির চেয়ে এগিয়ে।
অন্তত সাতটি জরিপের ছয়টিতে দেখা গেছে, কনজারভেটিভদের প্রতি জনসমর্থন কমলেও লেবারদের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে তিনটি সংস্থার জরিপে লেবার পার্টির প্রতি জনসমর্থন গতবারের চেয়ে কিছুটা বাড়ার চিত্র এসেছে।