বিসিবির খাবার খেয়ে অন্তত ৩০ সাংবাদিক অসুস্থ

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিবিপিএল) কাভার করতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সরবরাহ করা খাবার খেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন সাংবাদিকরা। ১১ ডিসেম্বর টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন ক্রিকেট সংবাদকর্মীর অসুস্থতার খবর মিলেছে। শুক্রবার তরুণ ক্রীড়া সাংবাদিক অর্ণব মজুমদারের মৃত্যুর পেছনে এই খাবারের বিষক্রিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি তুলেছেন সাংবাদিকরা।

বিপিএলের প্রতিদিনের দুই ম্যাচের প্রথমটি দুপুর দেড়টায় এবং পরেরটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়। ম্যাচ শেষে রিপোর্ট তৈরি করে বের হতে অনেক রাত হয়ে যায়। প্রেস বক্সে কাজের জন্য এই সময়টাতে রোজই প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা মাঠে থাকতে হয় ক্রিকেট সংবাদকর্মীদের। দুপুর এবং সন্ধ্যায় বিসিবির পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়। এবার ক্যাটারিংয়ের কাজ করছে সেভেন হিলস। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের খাবার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মাছারাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিক জাহিদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আমার গত রাতে ফুড পয়জনিং শুরু হয়েছে। সারা রাত কঠিন সময় কেটেছে। যেমন পাতলা পায়খানা, তেমন বমি। একপর্যায়ে বাথরুমে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলাম। আজ মাঠে আসার মতো অবস্থায় নেই।’ তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন আমাকে। আমার বউ চাঁদপুর গেছে। তাই কত সময় অজ্ঞান হয়ে ছিলাম, নিজেও জানি না। আমার জীবনে এমন পরিস্থিতিতে এই প্রথম পড়লাম।’

ফুড পয়জনিংয়ের কারণে গতকাল অনেক নিয়মিত সাংবাদিক মাঠে উপস্থিত হতে পারেননি। কেউ ডিসেন্ট্রিতে আক্রান্ত। কারও বমি হচ্ছে। দুটোই হচ্ছে কারও কারও। পেটে কিংবা বুকে ব্যথার সমস্যাও কমন। দুর্বলতায় কেউ কেউ বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। ক্রীড়া সাংবাদিক রিমন জানিয়েছেন, ‘আমিও কাল রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলাম। আজকে মাঠে আসার মতো অবস্থাই নেই আমার, দাঁড়াতেই কষ্ট হচ্ছে।’ এই জাতীয় অভিযোগ অনেকের।

প্রথম আলোর তারেক মাহমুদ, এনটিভির বর্ষণ কবির, যুমনা টিভির সালাউদ্দিন সুমন ও আলমগীর, একাত্তর টিভির দেব চৌধুরী, চ্যানেল আইয়ের সাজ্জাদ খান, ডেইলি স্টারের একুশ তাপাদার ও রামিন তালুকদার, মাছরাঙা টিভির আনোয়ার ও রাসেলসহ সংবাদকর্মীদের মধ্যে হাসনাত শোয়েব, বাচ্চু, হিমু– এমন আরও অনেকে খাবারজনিত কারণে গত কদিনে শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন এবং ভুগছেন এখনও।

খাবারের বিষক্রিয়ার প্রসঙ্গ ধরে উঠে এসেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের তরুণ ক্রীড়া সাংবাদিক অর্ণব মজুমদারের অকাল মৃত্যুর প্রসঙ্গটিও। ১১ ও ১২ তারিখ প্রেস বক্সে ছিলেন। শুক্রবার অসুস্থতার জন্য আসতে পারেননি। সকালে বমি করেছিলেন। পরে দুপুরে পেটের ব্যথা নিয়ে ফার্মেসিতে ওষুধ আনতে গিয়ে সেখানে অচেতন হয়ে পড়েন। ওখান থেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ২৭ বছরের অর্ণবকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিডিনিউজ তাদের রিপোর্টে লিখেছে, কেসি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. খালেদ জানিয়েছিলেন, সবকিছু দেখে মনে হয়েছে হয়তো ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যু হয়েছে অর্ণবের।