নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে গতকাল সোমবার মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত, আলোচনা সভা, তোপধ্বনি, বিজয় শোভাযাত্রা, খেলাধুলা, শিশুদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আলোকসজ্জা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা ইত্যাদি। ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
গাজীপুর : সকালে শহরের রাজবাড়ি মাঠে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রমুখ। পরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
কুমিল্লা : টাউন হল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভোরে তোপধ্বনির পর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
ফরিদপুর : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শহরের গোয়ালচামটে স্মৃতিস্তম্ভে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি জেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
গোপালগঞ্জ : রাত ১২টা ১ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা আওয়ামী লীগ নেতারাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।
ঝিনাইদহ : সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সাংসদ আবদুল হাই। পরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, প্রেরণা একাত্তর চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিজয় শোভাযাত্রা বের করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, পৌর মেয়র নায়ার কবীর প্রমুখ।
জয়পুরহাট : শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন।
দিনাজপুর : জেলাবাসী স্মরণ করেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ জাকিয়া তাবাসসুম জুঁইয়ের পুষ্প অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়।
ঝালকাঠি : স্বাধীনতার অমর সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক জোহর আলী। পরে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
খাগড়াছড়ি : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শহরের মাইনী ভ্যালি সংলগ্ন স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপজাতীয় শরণার্থীবিষয়ক টাক্সফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।
মেহেরপুর : শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মাগুরা : শহরের নোমানী ময়দানে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ডz প্রমুখ।
মৌলভীবাজার : স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সাংসদ নেছার আহমদ, জেলা প্রসাশক নাজিরা শিরিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান প্রমুখ।
নড়াইল : তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে জাতীয় ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
নরসিংদী : সকালে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পঞ্চগড় : তোপধ্বনির পর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন। সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে হয় কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত।
রাঙ্গামাটি : মারী স্টেডিয়ামে হয়েছে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী। পরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে মতবিনিময় এবং আলোচনা সভা হয়।
টাঙ্গাইল : মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর অনুষ্ঠিত হয় শোভাযাত্রা। স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের সব শ্রেণির মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ঢেকে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি।
সিরাজগঞ্জ : জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। শাহজাদপুর উপজেলার পূরবী থিয়েটার মঞ্চায়ন করে নাটক ‘বর্ণমালার দেশে’।
নীলফামারী : চৌরঙ্গীমোড়ে স্বাধীনতা স্মৃতি অমস্নান বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন প্রমুখ।
নাটোর : স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল, রত্ন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা প্রমুখ।
চাঁদপুর : তোপধ্বনির পর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
সাতক্ষীরা : তোপধ্বনির পর স্টেডিয়ামে পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ এবং রক্তদান করা হয়।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : ভোরে তোপধ্বনির পর স্মৃতিসৌধে উপজেলা আওয়ামী লীগ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। উপজেলা পরিষদ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
কুবি : বিজয় র্যালি, আলোকসজ্জা, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে।
পরিদর্শনের জন্য জাহাজ উন্মুক্ত : চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চলের কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এতে বিপুলসংখ্যক জনসাধারণ জাহাজগুলো পরিদর্শন করেন। খুলনা নৌঅঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও বীরবিক্রম মহিবুল্লাহর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গার্ড অব অনার প্রদান করেন।