যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ৪৯তম এই দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সালাম গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের পরিচালনায় ওই কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।
কুচকাওয়াজে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছামাত্র প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে স্বাগত জানান।
আইএসপিআর জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্র বাহিনী,
আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এই কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে। বিজয় দিবস প্যারেড-২০১৯-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং এবং সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. আকবর হোসেন এবং উপ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ২৪টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম দেয়। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন খান।
কুচকাওয়াজের যান্ত্রিক বহরে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমসংবলিত অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুসজ্জিত গাড়িবহর অংশ নেয়। এ ছাড়া আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন ও র্যাব এভিয়েশনের ফ্লাইপাস্ট, দুঃসাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প এবং এসটিআইই অপারেশন ডিসপ্লে কুচকাওয়াজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। বহর প্রদর্শনীর পরপরই শুরু হয় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে। এই ফ্লাইপাস্টের নেতৃত্ব দেন এয়ার ভাইস মার্শাল মো. সাঈদ হোসেন। প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর ব্যান্ড দলের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যান্ড কন্টিনজেন্ট দলও কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। কুচকাওয়াজ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্যারেডে অংশগ্রহণকারী কন্টিনজেন্ট ও কমান্ডারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ প্যারেড গ্রাউন্ডে আসার পথে সড়কগুলোতে স্বাধীনতাযুদ্ধ ও বিজয় দিবসের চেতনাসংবলিত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যানার ও বিলবোর্ড ঢাকা শহরে সার্ক ফোয়ারা থেকে জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, বিজয় চত্বর, গণভবন থেকে রোকেয়া সরণি হয়ে আগারগাঁও ও রাসেল চত্বর হয়ে আমিন বাজার পর্যন্ত স্থাপন করা হয়। এই সব ব্যানার ও বিলবোর্ডগুলোর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা বাঙলি জাতির অমর ইতিহাসের ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হয়। এ ছাড়া, প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- ছাড়াও কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সব বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কর্মকা-ের ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।
প্যারেড গ্রাউন্ডের জাঁকজমক সাজসজ্জা, বিভিন্ন বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ দুটি রং।
বিজয় দিবসের এই কুচকাওয়াজ সুষ্ঠু ও সার্থক করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, টিঅ্যান্ডটি, ডেসকো, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পিডব্লিউডি, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়। এতে তিন বাহিনীর প্রধানরা ছাড়াও অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সাংসদ, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, বিদেশি কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।