স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও স্থায়ী ঠাঁই হয়নি বীরাঙ্গনা শুকুরনের

৭১-এ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর তপ্ত বুলেটের ভয় তুচ্ছ করে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার শুকুরন নেছা। দেশ থেকে পাক সেনা হটাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুক্তিপাগল বাংলার দামাল ছেলেদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তরে। হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও সম্ভ্রম খুঁইয়েও যুদ্ধ থেকে পিছপা হননি তিনি।

দেশ স্বাধীনের পর আলমডাঙ্গার কুমার নদের পাড়ে ঝুপড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন ওই বীরাঙ্গনা। কিন্তু সেখানেও দেখা দিয়েছে বিপত্তি। সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে উচ্ছেদ নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার হাতে। এতে করে মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারানোর আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় বীরাঙ্গনার পরিবার।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বেতারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে বসে থাকতে পারেননি শুকুরন। দামাল ছেলেদের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েন হানাদার বাহিনীর ওপর। আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় তাকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। তারপরও দমেননি তিনি। দেশকে শত্রুমুক্ত করার নেশায় থেকেছেন অবিচল।

শুকুরন নেছা (৭০) বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর কুমার নদের জিকে ক্যানালের ধারেই কেটেছে জীবনের ৫০টি বছর। স্বামীর মৃত্যুর পর চার ছেলেমেয়ে নিয়ে এখানেই ঝুপড়ি ঘরে থেকেছি। অনেক জায়গায় ঘুরে মিলেছে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি। কিন্তু এখনো আমার স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা হয়নি। মাথা গোঁজার আশ্রয় বলতে একটি ঝুপড়ি ঘরই ছিল। সেটি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করা হলে বৃদ্ধ বয়সে রাস্তায় বসতে হবে।’

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতান বলেন, ‘জাতির জনকের সোনার বাংলাদেশে বীরাঙ্গনা আশ্রয়হীন থাকবে এটা কোনোভাবেই মানা যায় না।’ তিনি শুকুরন নেছার স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, ‘বর্তমান সরকার গৃহহীনদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু যাদের কারণে আমরা স্বাধীন একটি ভূখণ্ড পেয়েছি, তাদের আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়াটা অত্যন্ত কষ্টকর। বীরাঙ্গনা শুকুরন নেছার আশ্রয়হীন হওয়ার খবরটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছি।’