ইজারাদারের ঘাটে লঞ্চ ভেড়ায় ভোগান্তি

রয়েছে নির্দিষ্ট লঞ্চ টার্মিনাল। যাত্রীদের ওঠানামায় জন্য রয়েছে পন্টুন, বেইলি ব্রিজ। মাসকয়েক আগেই যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এ বেইলি ব্রিজ। সংযোজন করা হয়েছে নতুন একটি পন্টুনের। কিন্তু শুধু ঘাট ইজারাদারের খামখেয়ালিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার এ লঞ্চঘাটটিতে ভিড়ছে না অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী কোনো লঞ্চ কিংবা যাত্রীবাহী ট্রলার। প্রভাবশালী ইজারাদারের চাপে লঞ্চ ভেড়াতে হচ্ছে ইজারাদারের স’মিল ঘাটে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বিষয়টি একাধিকবার বিআইডবিস্নউটিএ কর্তৃপক্ষ ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও প্রতিকার পাননি যাত্রী সাধারণ।

সরেজমিন দেখা গেছে, কলাপাড়া পৌর শহরের বাজার সস্নুইচ এলাকায় নুরুল হক মুন্সির স’মিল এবং ইজারাদারের রাইস মিলের পাশেই ভিড়ছে কলাপাড়া-মৌডুবি রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি লঞ্চ। এখানেই টেবিল-চেয়ার পেতে ইজারাদারের লোকজন যাত্রীসহ পণ্য পরিবহনের টোল আদায় করছে। ঘাটের পাশেই নদীর পাড়জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাটা গোলগাছ। রয়েছে বড় বড় গাছের স্ত‚প। এরই মধ্য দিয়ে চরম ভোগান্তিসহ ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করছে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ-শিশু যাত্রী। ঝুঁকি নিয়েই পণ্য পরিবহন করছেন শ্রমিকরা।

কলাপাড়া-মৌডুবি রুটে চলাচলকারী এমএল রূপসী তুষার-২ লঞ্চের কেরানি আবদুল জব্বার দেশ রূপান্তরকে বলেন, যাত্রীসহ পণ্য পরিবহন এবং লঞ্চ ভেড়ানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ইজাদারের চাপে এখানে লঞ্চ ভেড়াতে হচ্ছে। একই অভিযোগ এমএল রাহাত লঞ্চের কর্মচারীদের। লঞ্চ ভেড়াতে অপারগতা প্রকাশ করলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করেন তারা।

মৌডুবির লঞ্চযাত্রী রাশেদ বলেন, ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠি। কিন্তু নামার সাহস পাই না। একই কথা বললেন লঞ্চের বেশ কয়েকজন যাত্রী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, যাত্রীদের এ ভোগান্তি নিরসনে ইজারাদারের খামখেয়ালির লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা কি কারও নেই?

ঘাট ইজারাদার তানভীর মুন্সী বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি চাইলেও কর্তৃপক্ষ টার্মিনালে লঞ্চ ভেড়াচ্ছে না।

পটুয়াখালী অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পটুয়াখালী অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষসহ যাত্রীদের সুবিধার্থে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে কলাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটটি নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। অথচ সেখানে দোতলা লঞ্চ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটের কোনো লঞ্চ ভেড়ছে না– এমন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।