২০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের শহীদ দিবস

বিজয়ের আন্দন ভাগাভাগি করতে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর জড়ো হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

কিন্তু দুর্ঘটনাজনিত এক মাইন বিস্ফোরণে সে দিন মারা যান মুক্তিযোদ্ধারা। মুহূর্তেই বিজয় উৎসবের সব আয়োজন পণ্ড হয়ে পড়ে। সদ্য যুদ্ধজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।

সেই থেকে ২০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত হয়। ঘরছাড়া মৌলভীবাজারবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল একে একে ফিরে আসতে থাকে সেদিন। জেলা শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব প্রান্তে স্থাপন করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। এখানে সমবেত হন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা স্থলমাইন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে এনে জড়ো করা হয়।

২০ ডিসেম্বর সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ ছিলেন রান্নায় ব্যস্ত, কেউ কেউ বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন আবার কেউ কেউ আত্মীয়, পরিবার-পরিজনের খোঁজ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ক্যাম্প। চোখের নিমেষেই তুলোর মতো উড়ে যায় বিদ্যালয়ের চালের টিন।

উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শহর ছাড়িয়ে যুদ্ধকালীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। পলকেই তছনছ হয়ে যায় পুরো এলাকা। মুক্ত দেশে নিশ্চিত ঘরে ফেরার পরমুহূর্তে তারা হয়ে গেলেন স্মৃতি। এলাকাবাসী ছিন্নভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ একত্র করে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করেন।

জানা গেছে, এই ক্যাম্পের অধিকাংশই ছিলেন গেরিলা বাহিনীর সদস্য। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছিল এবং কতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ক্যাম্পে অবস্থানরতদের কিছু নাম উদ্ধার করে একটি স্মারকস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এবং বিভিন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।