পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগেই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব জানিয়ে রেখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি)। যেটা আসল সিদ্ধান্ত। কিন্তু পিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম খান বুধবার জোর দিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের এখন অন্য কোনো দেশে (হোম) টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ নেই।’ এদিকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন গতকাল ফোনে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান তাদের কাছে পরিষ্কার করে দিয়েছি। দীর্ঘ সময় আমরা পাকিস্তানে থাকার পক্ষপাতী নই।’
তার মানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ পাকিস্তানে এবং টেস্ট সিরিজ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার যে প্রস্তাব পিসিবিকে কয়েক দিন আগে পাঠানো হয়েছে সেখান থেকে সরবে না বিসিবি। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে বাংলাদেশের তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট সিরিজ খেলার সূচি পূর্বনির্ধারিত।
২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটিতে আর কোনো দল পূর্ণাঙ্গ সফরে যায়নি। বাংলাদেশও যায়নি। বিচ্ছিন্নভাবে সেখানে কয়েকটি ম্যাচ হয়েছে। গেল এক দশকে পাকিস্তানকে সব টেস্ট সিরিজ খেলতে হয়েছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। তবে পাকিস্তান ‘গোঁ’ ধরছে ভিন্ন কারণে। যে শ্রীলঙ্কার ওপর হামলায় পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসিত হয়েছিল সেই দল কিছুদিন আগে দেশটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে। এখন দুই টেস্টের সিরিজের সফরে আছে। শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশের সিরিজও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ বলে পাকিস্তান একটু বেশি জোর করতে পারছে।
পিসিবি সিইও ওয়াসিম খান বলেছেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) তিন টি-টোয়েন্টি এখানে খেলতে রাজি বলে আমরা খুশি। কিন্তু টেস্ট দুটো খেলতে কিছুটা নারাজ। আমি তাদের লিখেছি। কঠিন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কারণটা জানতে চেয়েছি। আলোচনা শেষ হয়নি। তাই তারা (টেস্ট খেলতে) আসছে না এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’
পিসিবি ভাবছে এখনো সম্ভাবনা আছে। বিসিবি তা ভাবছে না। ‘দেশ রূপান্তর’ বুঝতে পারছে বাস্তবতা তাদের পক্ষে নেই। পাকিস্তানে সবকিছুর পরও নিরাপত্তা শঙ্কা থাকে বলে এই সফরের ব্যাপারে বিসিবি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। একটি নিরাপত্তা দল সফর করে এসে রিপোর্টও দিয়েছে।
বিসিবি সিইও নিজাম উদ্দিন বলছেন, ‘আমাদের ওপর যতটা কম সময় পাকিস্তানে থাকা যায় সেই ব্যাপারে নির্দেশনা আছে। আমরাও পাকিস্তানকে তাদের দেশে ক্রিকেট ফেরত নিতে সহায়তা করতে চাই। কিন্তু একই সময়ে এটাও বুঝতে হবে যে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।’
ব্যাপার আরও আছে। ৩ টি-টোয়েন্টি ও ২ টেস্ট মানে প্রায় এক মাসের সফর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দু-একজন খেলোয়াড়ের পাকিস্তানে যাওয়ার ব্যাপারে তীব্র অনীহা আছে। কিন্তু সফরটা সংক্ষিপ্ত হলে বোর্ডের পক্ষে তাদের রাজি করানো অপেক্ষাকৃত সহজ। তাই পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখার বিষয়ও ভাবনায়। পাকিস্তান বোর্ড অনীহার কারণ জানতে চেয়েছে এবং এই প্রসঙ্গে নিজামউদ্দিন জানালেন, ‘এটা তাদের (পিসিবি) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এর সঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনের ব্যাখ্যা, ‘আমরা চাইলে তো হবে না, সেখানে দীর্ঘদিন থাকার ব্যাপারে খেলোয়াড়দের মানসিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। পাকিস্তান ও আমাদের সবকিছু বিবেচনা করে আমরা মাঝামাঝি একটা অবস্থানে এসেছি। এটা (পাকিস্তানে পুরোদমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানো) এক দিনে হবে না। আমরা গিয়ে খেললেই হয়ে যাবে তাও নয় যখন এত বছরে হয়নি। তাই সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করলেন, ‘আমরা পাকিস্তানকে সহায়তা করতে চাই। সেখানে ক্রিকেট ফিরুক চাই। কিন্তু আমাদের ব্যাপারটাও তো তাদের বুঝতে হবে।’
পাকিস্তানের ‘গোঁ’ ধরে বসার বিষয়কে যে বিসিবি পাত্তা দিচ্ছে তাও নয়। ওয়াসিমের কথার জবাবে নিজাম উদ্দিন তো সাফ বললেন, ‘তারা বলছে পাকিস্তানের বাইরে তাদের টেস্ট খেলার সুযোগ নেই। ঠিক আছে, দেখা যাক না। এটা হয়তো তাদের কৌশল হতে পারে, নির্দিষ্ট একটা সিরিজের ব্যাপারে। এখন অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড কি পাকিস্তানে যাবে?’ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে জবাবটা ‘না’ মেনে নিজাম উদ্দিন সিদ্ধান্ত টানেন, ‘তাহলে কি ধরে নিতে হবে সুযোগ নেই? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তা নয়। আমরা আমাদের অবস্থান তাদের কাছে পরিষ্কার করে দিয়েছি। দীর্ঘ সময় আমরা পাকিস্তানে থাকার পক্ষপাতী নই।’