প্রাণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন আসে গাছ থেকেই। গাছ একদিকে যেমন অক্সিজেন ছাড়ে, অন্যদিকে গ্রহণ করে প্রাণীর ছেড়ে দেওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড। তাই বলাই যায় উন্নত প্রাণীর আবির্ভাবের আগেই পৃথিবীতে গাছের জন্ম হয়েছে। অন্য কথায় বলা যায়, গাছই পৃথিবীর আদিমতম বাসিন্দা। গবেষকদের ভাষ্য– এই কথাগুলো কথার খাতিরে কথা নয়, আসলেই পৃথিবীর আদিমতম বাসিন্দা হচ্ছে গাছ। পৃথিবীতে এযাবৎকাল প্রাণিদেহের যত জীবাশ্ম বা ফসিল পাওয়া গেছে তার কোনোটির বয়সই ১০ কোটি বছরের আগে নয়। অথচ গাছের এমন কিছু ফসিল পাওয়া গেছে যার বয়স শত শত মিলিয়ন বছর।
সম্প্রতি একদল গবেষক ঘোষণা দিয়েছেন তারা পৃথিবীর আদিমতম গাছের ফসিল খুঁজে পেয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পাওয়া ওই শিলীভূত গাছের বয়স কম করে হলেও ৩৮ কোটি ৬০ লাখ বছর। এরও আগে পাওয়া যে গাছের ফসিলকে সবচেয়ে পুরনো মনে করা হতো এটি তারচেয়ে কম করে হলেও ২০ থেকে ৩০ লাখ বছর আগের। গাছের ফসিলটি পাওয়াও গেছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গিলবাও বনে।
বিবিসি বলছে, ফসিলটির এই তথ্য এখন প্রকাশ করা হলেও এটি পাওয়া যায় আরও দশ বছর আগে। যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউ ইয়র্ক স্টেট মিউজিয়াম পরিচালিত অনুসন্ধানে মেলে এই ফসিলের খোঁজ। তারপর থেকে প্রায় তিন হাজার বর্গমিটার এলাকা খুঁড়ে তারা পান ওই ফসিলের আসল চেহারা। তবে কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে নির্ণয় করেন তার বয়স। গবেষকরা জানান, এখনকার গাছের মতোই তখনকার গাছেরও শিকড় পৌঁছাত মাটির বহুদূর পর্যন্ত। এর মাধ্যমেই সংগ্রহ করত পানি কিংবা খনিজ উপাদান।
এর আগে ২০০৪ সালে নিউ ইয়র্কে পাওয়া আরেকটি ফসিলকে সবচেয়ে পুরনো বলে দাবি করা হয়েছিল। তখন গবেষকরা বলেছিলেন, তারা যে গাছটির ফসিল পেয়েছেন তার বয়স কম করে হলেও ৩৯ কোটি বছর হবে। সেটিও ছিল এখনকার গাছের মতোই। তবে পরে সেটির সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।