উচ্ছেদের পর দ্রুত সংস্কার করে চালু অবৈধ ভাটা

পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের নয়টি অবৈধ ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযানসহ ১৩টি ভাটাকে জরিমানা করার সপ্তাহ পার না হতেই সংস্কার করে আবারও শুরু হয়েছে এসব ভাটার কার্যক্রম। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে ওই সব ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

শনিবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হওয়া এসব ইটভাটায় গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, ইটভাটার একদিকে কাঠের আগুনে পুড়ছে ইট, অন্যদিকে দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ শ্রমিক লাগিয়ে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন সেক্টরকে ‘ম্যানেজ’ করা হচ্ছে বলেও জানান ভাটার মালিকেরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকাসহ সরকারি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগে গত মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার দুদিন বাবুলচারা, দাদাপুর ও কামালপুরে ১৩টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। ওই সব ভাটায় জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সব ইটভাটায় কোনো প্রকার ইট পোড়ানোসহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করে এর অন্যথা হলে কঠিন শাস্তির হুঁসিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশনা না মেনে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙচুর হওয়া ইটভাটাগুলো দ্রুত মেরামত করে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাটার মালিকরা জানান, এবার প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইটভাটার মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, ৫২টি ভাটার মধ্যে ৩৯টি চালু রয়েছে। বাকি ১৩টি দেনার দায়ে দেউলিয়া। যারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বেশির ভাগই অবৈধ। তবে এবার ঊর্ধ্বতন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করেই কার্যক্রম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘৮-১০ বছর ধরে এসব ভাটার কার্যক্রম চলছে। এক দিনে সব ভাটা বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

আবারও সংস্কার করে ভাটার কার্যক্রমের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিহাব রায়হান বলেন, ‘এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য অবশ্যই আইনগত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’