তরুণ সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। ‘গহীনের গান’ শিরোনামের সিনেমাটির নায়ক সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। এখন দেশের ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি। এই সিনেমার দর্শক সাড়া, সামনে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া...
প্রথমেই বলতে চাই- আমার প্রথম সিনেমা ‘গহীনের গান’ তথাকথিত বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা নয়। এতে নাচ-গান, ভরপুর অ্যাকশন নেই। তবে যারা জীবনের ছোট ছোট অনুভূতিকে স্পর্শ করতে চান তাদের কাছে এটি দেখার মতো সিনেমা। এজন্য আমাদের প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না। বিশেষ করে মুক্তির শেষ মুহূর্তে যখন সিনেমা হল পাওয়া নিয়ে নানা ঝামেলা হচ্ছিল তখন প্রত্যাশা আরও কমে গিয়েছিল। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির প্রথম দিনেই আমি আবার আত্মবিশ^াস ফিরে পাই। প্রথম দিনে ঢাকার বেশ কিছু হলে আমরা গিয়েছিলাম। কয়েকটি হল প্রায় হাউজফুল ছিল। বিশেষ করে সিনেমাটি দেখার পরে দর্শক যে ফিডব্যাক দিয়েছে সেটা আমাকে খুব উজ্জীবিত করেছে।
আবারও সিনেমা নির্মাণে...
সত্যি কথা বলতে, আবারও সিনেমা বানাব কি না তা আমি ‘গহীনের গান’ মুক্তির আগের দিন পর্যন্ত জানতাম না। সিনেমাটির গল্প লেখা থেকে শুরু করে সংলাপ রচনা, পরিচালনা সবই আমি করেছি। এডিটিং, ডাবিং- প্রতিটি কাজের সময় সিনেমাটি ছোটপর্দায় বারকয়েক দেখা হয়েছিল। কিন্তু বড় পর্দায় নিজের প্রথম কাজ দেখার পর যে অনুভূতি হয়েছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বড় পর্দায় নিজের কাজ আবারও দেখার আনন্দ ও লোভ, এবং দর্শকের ফিডব্যাক দেখে মনে হচ্ছে আমি আরও অনেক সিনেমা বানাতে চাই। একজন লেখক যখন কোনো গল্প লেখেন তখন গল্পের চরিত্রগুলো কেমন, তারা কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তার একটি দৃশ্যায়ন চোখের সামনে দেখতে পান। আর সেই দৃশ্যকল্পকে ক্যামেরায় ধারণ করে পর্দায় নিয়ে এলেই সিনেমা হয়ে যায়। আমি এই কাজটি করতে খুব পছন্দ করছি। ‘ছদ্মবেশ’ নামে আমি প্রথম থ্রিলার উপন্যাস লিখেছি। আমাদের দেশের সাহিত্যে তেমন কোনো মৌলিক গোয়েন্দা চরিত্র নেই। তাই আমি এই উপন্যাসের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি এসআই রেজা নামের একটি গোয়েন্দা চরিত্র দাঁড় করাতে। আমার প্রয়াস পাঠকের খুব পছন্দ হয়েছে। তাই এখন থেকে এই উপন্যাস সিরিজ আকারে প্রকাশ করব। প্রতিটি পর্বে একটি কেসের সমাধান খুঁজবে এসআই রেজা। এই উপন্যাস দিয়েই আমার পরবর্তী চলচ্চিত্র তৈরির ইচ্ছা।
দুই পক্ষেরই দায়িত্ব আছে...
আমরা প্রায়ই অভিযোগ করি বা শুনি, ভালো কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে না। তাই দর্শক নাটক, সিনেমা কিছুই সেভাবে গ্রহণ করছে না। কিন্তু দর্শকরাই তো ইউটিউবে অনেক অশ্লীল বা নিম্নমানের ভিডিও ভাইরাল করছে। ফলে নাটক সিনেমার এখন যে অবস্থা তার উন্নতির জন্য শিল্পী, পরিচালক, কলাকুশলীর যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি দর্শকেরও দায়িত্ব আছে ভালো কাজটাই দেখা। তাহলে ভালো কাজের মাধ্যমে প্রযোজক তার লগ্নিকৃত টাকা ফিরে পাবে। এতে করে তারা ভালো কাজে টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে।