বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র উদ্ভিদের প্রসঙ্গ এলে কমবেশি সবারই দৃষ্টি যাবে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে। সেখানকার অধিক শীতল অঞ্চলগুলোর উদ্ভিদগুলোকেই সবচেয়ে ক্ষুদ্র ভাবা হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি নতুন একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্যালিক্স হার্বেসিয়া বা বামন উইলো নামে একটি উদ্ভিদকেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র গাছের তকমা দিয়েছেন অনেকেই। সারা বিশ্বের বৃক্ষপ্রেমী নেটিজেনদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
যদিও অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিশ্বের অনেক নামিদামি উদ্ভিদ গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বামন উইলোকে সবচেয়ে ক্ষুদ্র উদ্ভিদ মানতে নারাজ। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দুটি ভাগে বিভক্ত হলেও স্বতন্ত্র্য কিছু বৈশিষ্ট্য ও গঠনপ্রণালীর কারণে বামন উইলোকে ক্ষুদ্রতম উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে মানতে সুর মিলিয়েছেন ঠিকই।
বামন উইলো একটি কাঠবাদাম বিশেষ গাছ। এটি এতটাই ক্ষুদ্রতম যে, পায়ের নিচে অনায়াসেই মাড়াই হয়ে যায় গাছটি। কোনো ধরনের অনুভূতির জন্মও দেয় না তারা। দূর্বাঘাসের সঙ্গে এদের তুলনা করলেও কোনোক্রমেই অত্যুক্তি হবে না।
বামন উইলো সাধারণত ১ সেন্টিমিটার থেকে ৬ সেন্টিমিটার উচ্চতায় বৃদ্ধি পায়। এদের গোলাকার ও চকচকে সবুজ পাতা ১ সেন্টিমিটার থেকে ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং প্রশস্ত হয়। স্যালিক্স গোত্রের অন্যসব উদ্ভিদের মতোই এদের প্রকারভেদ রয়েছে। পুরুষ উদ্ভিদগুলো হলুদ ফল দেয় যেখানে স্ত্রী উদ্ভিদগুলো দেয় লাল বর্ণের।
বামন উইলো দেড় কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় বেঁচে থাকতে পারে। আকারে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় বনসাই গাছ হিসেবে বেশ উপযোগী। কম জায়গা দখল করায় অনেকেই বাসা বাড়িতেও ঠাঁই দেয় বামন উইলোকে। উচ্চতা এবং প্রস্থ হিসেবে মাত্র ১০/১২ সেন্টিমিটার জায়গা হলেই উইলো গাছ লাগানো যাবে। এছাড়া ক্রিস্টমাস ট্রি হিসেবেও উইলো’র ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।