‘ভ্যালুলেস’ মেহেদীতে প্লাটুনের বাজিমাত

লো-স্কোরিং ম্যাচটা বেশ উপভোগ্য হলো। ঘটনা থাকল কিছু। প্রশ্নও। কিন্তু সব ছাপিয়ে তারা ঝলমলে ঢাকা প্লাটুনের অপেক্ষাকৃত লো-প্রোফাইলের মেহেদী হাসান করলেন বাজিমাত। যদিও তার ২৯ বলে ৭ ছক্কা ও ২ চারের ৫৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের পরও ম্যাচটা শেষ ওভারে গিয়ে জিতেছে প্লাটুনরা। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ঢাকায় প্রথম দেখায় হারিয়েছিল। গতকাল বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে আবার হারিয়ে জয়ে ফিরল মাশরাফী-তামিমের ঢাকা। কুমিল্লা থাকল হারের বৃত্তেই।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াসে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৬০ রান কুমিল্লার। এই রানপ্রসবা উইকেটে এটা জেতার পুঁজি নয়। ‘আউট’ হয়ে ড্রেসিং রুমে চলে গিয়েও আবার মাঠে ফিরে হার না মানা ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি লঙ্কান ওপেনার ভানুকা রাজাপাকসে। কিন্তু খুলনার ছেলে ২৫ বছরের মেহেদীর সঙ্গে অসুস্থতা থেকে ফেরা তামিম ইকবালের ৩৪ জয়ের মঞ্চ গড়ল। শেষটায় সামান্য চাপে পড়লেও মুমিনুল হক ২৮ ও শহিদ আফ্রিদি ২৬ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে ফিরেছেন। আর তা মাত্র ১ বল হাতে রেখে। অল রাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচের সেরা মেহেদী।

সহজ জয়কে কঠিন করে পেলেও ৫ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থানের উন্নতি করেছে ঢাকা। ৫ ম্যাচে ২ জয় ও ৩ পরাজয়ে ৪ পয়েন্টে ৫ নম্বরেই রইল কুমিল্লা।

ম্যাচের পঞ্চম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের বলে ক্যাচ তুলে ফিরেছিলেন রাজাপাকসে। তখন ২০ তার। মাঠের আম্পায়ার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলেও টেলিভিশন আম্পায়ারের চেক করা বাকি ছিল। রাজাপাকসে অবশ্য সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে গেলেন। ইয়াসির রাব্বি ক্রিজে এলেন। টেলিভিশন আম্পায়ার দেখলেন বলটি ‘নো’। অবৈধ বলে আউট নন বলে আবার রাজাপাকসে উইকেটে।

সৌম্য সরকার (১০) ও সাব্বির রহমান (০) ব্যর্থ। দুটি উইকেটই অফ স্পিনার মেহেদীর। শেষে তার বোলিং ফিগারও (৪-০-৯-২) ম্যাচের সেরা। তো নাটকীয় জীবন পেয়ে শেষে ১৯তম ওভারের পর ৯৬ রাজাপাকসের। পরের ওভারের দ্বিতীয় ও শেষ বল খেলার সুযোগ পেয়ে যথাক্রমে ১ ও ২ বাই নিয়ে সেঞ্চুরিবঞ্চিত থেকে যান। কেন? ‘ক্রিকেট ফানি গেম। এমন হতেই পারে’– ম্যাচ শেষে হাসতে হাসতে লঙ্কানের ব্যাখ্যা।

ওদিকে স্পিনের কমপিস্নট প্যাকেজ আফগানিস্তানের মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সবাই তটস্থ। এই ম্যাচেও তার ২ উইকেট। শুরুর দিকে তাকে সামলাতে এনামুল হক বিজয়ের (০) উইকেট হারিয়ে ভিন্ন কৌশল ঢাকার। দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ ওভারে মুজিবকে সতর্কতায় সামলান তামিম ও মেহেদী।

তৃতীয় ওভারে অফ স্পিনার রবিউল ইসলাম রবিকে একটি করে চার-ছক্কা মেরে শুরু করে এক ওভার পর এই বোলারের ওপর চড়াও মেহেদী। প্রথম বলে কঠিন রিটার্ন ক্যাচ ছিল। পরের বলে বাউন্ডারি। এবং এরপর টানা চার ছক্কা মেহেদীর। ওভারে ২৮। দ্রুত এগিয়ে যায় ঢাকা।

২২ বলে ফিফটি করে ফেলেন মেহেদী। তাকে মারার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন তামিম। পাওয়ার প্লেতে ৬২। নবম ওভারে মেহেদী আরেকবার মারতে গিয়ে আল-আমিন হোসেনের শিকার হওয়ার সময় দলের রান ৮২, তামিমের ১৬। ৪৭ বলে ৮৩ রানের মূল্যবান জুটি।

পরের ওভারেই মুজিব টানা ২ বলে ২ উইকেট নিলে চাপ নিয়ে নেয় ঢাকা। মুমিনুল আর তামিম ৩৩ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়েন। ৪০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে অ-তামিমসুলভ ৩৪ রান নিয়ে তামিম ফেরেন সৌম্যর শিকার হয়ে।

শহিদ আফ্রিদির কোনো নিশ্চয়তা নেই। ২৮ বলে ৩৯ এর লক্ষ্য। শেষ ওভারে চাই ৮। আফ্রিদি ভয় ধরিয়ে দেন। সৌম্যর প্রথম বলে মুমিনুল প্রান্ত বদলে আফ্রিদিকে দায়িত্ব দেন। একটি ডটের পর ছক্কা। স্কোর সমান। পরের বল ডট। পঞ্চমটিতে আফ্রিদি সিঙ্গেল বের করে নিলে জয়ের স্বস্তি নিয়ে আজকের ম্যাচের (প্রতিপক্ষ সিলেট থান্ডার) ছক কষার সুযোগ মেলে ঢাকার।