খাশোগি হত্যার ‘হাস্যকর’ রায়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের নিন্দা

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব ন্যায়বিচারে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করে দেশটির প্রতি নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

আলজাজিরা জানায়, তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সোমবার ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সৌদি আরব। এ ছাড়া আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তবে দুই সন্দেহভাজন সৌদি যুবরাজের মিডিয়া উপদেষ্টা সাউদ আল-কাহতানি এবং গোয়েন্দা সংস্থার উপ-প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ আসিরিকে অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে।

সৌদি বিচার বিভাগ থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয় এবং ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে ২৪ বছর জেল এবং বাকিদের খালাস দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের নাম এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর শালান আল-শালান বলেন, ‘তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না, তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।’

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র আহমেদ বেনছেমসি জানান, পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি ‘সন্তোষজনক’ নয়।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেও বিচার প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা ছিল। আমরা এখনো জানি না দুষ্কৃতকারীরা কারা, কাদের বিরুদ্ধের অভিযোগ আনা হয়েছে।’

তার মতে, সৌদি বিচার বিভাগ আরও উচ্চতর তদন্ত করার চেষ্টাও করেনি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির শীর্ষ মহলের কেউ এই হত্যার আদেশে ভূমিকা রেখেছেন কীনা সেটি তদন্ত করা হয়নি।

এই রায়টিকে ‘কলঙ্কজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। খাশোগিকে হত্যা করতে বিমানে করে যারা ইস্তাম্বুলে এসেছিল তাদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিব এরদোয়ানের উপদেষ্টা ফাহরেটিন আলতুন।

এদিকে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কাজ করা জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন মতে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সৌদি আরব দায়ী।’

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা তদন্ত ও রায়ে প্রভাব খাটিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এই রায়কে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।   

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল খাশোগি। গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট।

শুরুতে তাকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাশোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে তুরস্কের তদন্তে বেরিয়ে আসে মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই  খাশোগিকে হত্যা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রতিবেদনেও একই বিষয়টি উঠে আসে। 

যদিও ঘটনার সঙ্গে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে বারবার দাবি করে রিয়াদ।