গাজীপুরে পুলিশ পাহারায় কাঠ পাচারের চেষ্টা

গাজীপুরে পুলিশ পাহারায় চোরাই গজারি কাঠ পাচারকালে চালকসহ তিনজনকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়। কাঠগুলো কাভার্ড ভ্যানে করে কাপাসিয়া থেকে ঢাকায় পাচার করা হচ্ছিল। ট্রাকসহ কাঠ আটককালে পুলিশ সদস্যরা সটকে পড়ে। আটক ব্যক্তিরা হলেন কাভার্ড ভ্যানচালক মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের আবদুল হালিম (৪৫) ও তার দুই সহকারী একই এলাকার আজিজুর রহমান (৪৭) ও সোহেল (৪২)।

ঢাকা বন বিভাগের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের সালনা বিট কাম ফরেস্ট চেক স্টেশনের ফরেস্টার আবদুল মান্নান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার রাত ৩টার দিকে কাভার্ড ভ্যানটি চেক স্টেশন অতিক্রমের সময় থামার সিগন্যাল দেওয়া হয়। ওই সময় কাভার্ড ভ্যানচালকের পাশে এক পুলিশ সদস্য বসা ছিলেন। কিন্তু চালক না থামিয়ে তিনিসহ ৪-৫ বন প্রহরীর ওপর দিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দ্রুত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যেতে থাকেন। কাভার্ড ভ্যানের পেছনে একটি লেগুনায় গাজীপুর সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা নিজেদের রক্ষা করে মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া দিয়ে সালনা সেতুর পাশে ব্যারিকেড দিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি থামান। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালকের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্য সটকে পড়ে। পরে কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে গজারি গাছের ১৬০টি বড় বল্লি পাওয়া যায়। চালক বল্লিগুলোর কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। পরে কাভার্ড ভ্যান ও বল্লিগুলো জব্দ করে চালকসহ ওই তিনজনকে আটক করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

চালক হালিম জানান, অবৈধ কাঠগুলো বন বিভাগের স্টেশন পার করে দেওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে চুক্তি ছিল চোরাই কাঠ মালিকের। এ কারণে বনপ্রহরীরা সিগন্যাল দিলেও পুলিশের নিষেধ থাকায় তিনি কাভার্ড ভ্যান থামাননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর সদর থানার ওসি আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, তারা কোন থানার, ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশের সদস্য তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।