সরকারি খরচে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ পাবেন এক লাখ তরুণ। এরপর তাদের চাকরির ব্যবস্থাও করবে সরকার। এজন্য ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়িত হবে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। এই প্রকল্পসহ মোট ৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সাংবাদিকদের একনেক সভা বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। মন্ত্রী জানান, তরুণদের ড্রাইভিংয়ের পাশাপাশি অটোমেকানিকসের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে, যাতে চলতি পথে হঠাৎ কোনো যানবাহন বিকল হলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করতে পারেন। তাদের চাকরিও দেওয়া হবে। দেশের ৬৪টি জেলায় বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশ-বিদেশের উপযোগী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্পের আওতায় দেশের বেকার যুবক-যুবতীরা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।
গতকালের একনেক সভায় তরুণদের গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণের প্রকল্পটিসহ মোট ৯ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমএ মান্নান বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজেস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করবে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে– ৩৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পটি আগামী বছর জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুনে শেষ হবে। এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ।
‘মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পটি ২০২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
‘সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৯৮২ কোটি ৫২ লাখ ও সিলেট সিটি করপোরেশন দেবে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির কার্যকাল ধরা হয়েছে গত জুলাই থেকে, শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে।
‘ফরিদপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন সংশোধিত প্রকল্পটি’ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, শেষ হবে ২০২১ সালে জুনে। সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী বছরে জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৪টির ২ হাজার ৯৭৫টি কক্ষ নতুনভাবে নির্মাণ, ১৭৭টি বিদ্যালয়ের ১ হাজার ১৬৭টি কক্ষের অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দন, উত্তরাতে ৩টি ও পূর্বাচলে ১১টিসহ মোট ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুনভাবে স্থাপন এবং শতভাগ ভর্তি ও শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটানো নিশ্চিত করা হবে।
‘মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসির জন্য অফিসার্স মেস ও বিওকিউ নির্মাণ’ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৩ সালের মার্চে।
‘চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকা’ প্রকল্পটির বাস্তবায়নের সময় চতুর্থবারের মতো বেড়েছে। প্রকল্পটি আগামী বছর জুনের মধ্যে শেষ হবে। তবে প্রকল্পটির ব্যয় ৬৩ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
‘হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামী বছর জানুয়ারিতে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৪ কোটি ৮০ টাকা।
সিলেট নগরী উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, মহানগরীর উন্নয়নে ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণে এই টাকা ব্যয় করা হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে একসঙ্গে এটাই সর্বোচ্চ সরকারি বরাদ্দ বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামসহ মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।