চকলেট-বিস্কুট দিয়ে ভুলিয়ে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

শুভ মিয়া (১৮), রাজধানীর রামপুরার ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসার বিল তুলত। প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া রফিকুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া আক্তারকে (১০) স্নেহ করত। বিভিন্ন সময় চকলেট, বিস্কুট দিত। পরিচিত হওয়ায় পরিবারও বিষয়টি নিয়ে এতটা ভাবেনি। কিন্তু স্নেহের আড়ালে শুভ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাদিয়াকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করে।

পরের দিন শনিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া মুসলিমনগরের একটি হাউজিং প্রকল্পের কাছ থেকে সাদিয়ার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত সোমবার রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বাসা থেকে শুভকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নেত্রকোনা সদর থানার মহিষহাটির মো. আলমগীর হোসেন ওরফে চন্দনের ছেলে সে। এরপর মঙ্গলবার ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শুভ।সাদিয়ার স্বজনরা জানান, সাদিয়া রামপুরা মিসবাহুল জান্নাত মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। দুই বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। রফিকুল ও মৌসুমি দম্পতি সবসময় মেয়েদের চোখে চোখে রাখতেন। কোনো আবদার ফেলতেন না। দেশ রূপান্তরকে রফিকুল বলেন, ‘সাদিয়াকে না পেয়ে থানায় জিডি করি। পরে পুলিশ আমার মেয়ের লাশ পাওয়ার খবর দেয়। আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।’

এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবদুর রাশিদ দেশ রূপান্তরকে জানান, শুভ সাদিয়াদের পাশের বাড়ায় ভাড়া থাকত। সাদিয়া নিখোঁজের রাতে সে বাসায় না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ হয়। বিষয়টি জানানোর পর গ্রেপ্তার করা হলে, ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে শুভ। আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুভ সাদিয়াকে একা পেয়ে বেড়ানোর কথা বলে কৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কেরানীগঞ্জে নিয়ে যায়। দলবেঁধে ধর্ষণের আলামত থেকে সিএনজিচালকের সন্ধান করা হচ্ছে।

এদিকে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। দলবেঁধে ধর্ষণও হতে পারে। হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে রক্তমাখা শার্ট ও মাফলার পাওয়া গেছে।