ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে প্রার্থী জটিলতায় পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণের কর্মী-সমর্থকরাও চান সেখানে দলের নতুন প্রার্থী দেওয়া হোক। তবে উত্তরের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম আতিককে নিয়ে নেতাদের তেমন আপত্তি নেই। উত্তর সিটিতে বিজয় নিশ্চিত করতে আতিকের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে আতিকের সম্ভাবনাই বেশি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, সাঈদ খোকন কর্মী-সমর্থকদের কাছেই অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। দলের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, জিততে হলে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী সাঈদ খোকনকে বদলাতেই হবে। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের নেতারা হয়তো ভোটের মাঠে কাজ করতে বাধ্য হবে কিন্তু ভোটকেন্দ্রে যাবে না তারা। গেলেও ভোট দেবে না সাঈদ খোকনকে। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রার্থী ভাবা দরকার দক্ষিণ সিটিতে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাঈদ খোকনের ওপর আস্থা রাখতে চাইলে সে ক্ষেত্রে দ্বিমত করবেন না অন্য নেতারা।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিতে হবে। প্রার্থী পরিবর্তন করা না হলে ঘরের সদস্যরাই মাঠে নামবে না। লোক দেখানো নামলেও ভোট দেবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকবে। সম্পাদকমণ্ডলীর ওই নেতা আরও বলেন, দক্ষিণে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফজলে নূর তাপসকে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনে করা হচ্ছে। গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড বৈঠকে বসবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের পক্ষে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। ওই বোর্ডের অন্তত চারজন সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বোর্ডেও তারা দক্ষিণ সিটিতে নতুন প্রার্থীর পক্ষে কথা বলবেন। প্রয়োজনে তাপসও হতে পারে তাদের পছন্দের প্রার্থী। প্রথমত তাপসের একটি নিজস্ব ইমেজ রয়েছে। দ্বিতীয়ত তার বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সপরিবারে নিহত হন। সে ধরনের একটি সিমপ্যাথি নির্বাচনে তাপসের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।
বোর্ডের আরেক সদস্য বলেন, ঢাকা দক্ষিণে নতুন প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্য দুই সদস্য বলেন, সাঈদ খোকনের ব্যাপারে দলের নেতাকর্মীরাই ক্ষুব্ধ। তাকে দ্বিতীয়বারের মতো মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা আরও বলেন, ঢাকার সিটি নির্বাচনে এমন কোনো প্রার্থী আওয়ামী লীগ দিতে চায় না যাকে নিয়ে ভোটের মাঠে পিছিয়ে যেতে হবে দলকে। ওই দুই বোর্ড সদস্য বলেন, ঢাকা সিটিতে এমন প্রার্থী দেওয়া হবে যাতে প্রার্থীতেই ভোটের মাঠে এগিয়ে থাকে আওয়ামী লীগ।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত করা হবে, কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। সাঈদ খোকন আর ফজলে নূর তাপসকে প্রাধান্য দিয়েই মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আলোচনা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাপসের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের একটি ইতিবাচক দিক তো আছেই। তাপস হয়তো মনোনয়ন পাবেন মনে করেই ফরম সংগ্রহ করেছেন।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দক্ষিণে আওয়ামী লীগের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক তাকে অবশ্যই ক্লিন ইমেজের হতে হবে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নিজস্ব জনপ্রিয়তাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাঈদ খোকন ও তাপসকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তবে কে দক্ষিণের মনোনয়ন পাবেন তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, ‘ঢাকা-১০ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহকে ওই শূন্য আসনের উপনির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে এমন একটি আলোচনা দলের অভ্যন্তরে রয়েছে। এই হিসেবে বলা যায় তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত।’