২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচন’ আখ্যায়িত করে গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে জোট শরিক জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে কদম ফোয়ারার দিকে এগুনোর চেষ্টা করলে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
এ সময় সেখানে নেতাকর্মীরা সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সেøাগান দেন। পরে প্রেস ক্লাবের ভেতরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আ স ম আব্দুর রব বলেন, আমরা কেমন দেশে বসবাস করছি সেটা আপনারা সবাই দেখছেন। একটা বিক্ষোভ মিছিল করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ বাধা দিয়েছে। আজ এই দেশে কেউ স্বাধীন নয়। সবাইকে সরকার বন্দি করে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা এটা হতে দেব না। আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখব। এ সময় আজ সোমবার মৎস্য ভবনের সামনে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা আবদুর রব। এর আগে সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করবার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃতিত্বের দাবি করবার অধিকার আছে। তেমনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্ক রচনা করবার ইতিহাসও সেই দলটির আছে। দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক বছরে যে দুঃশাসন কায়েম করেছে সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।
সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নিন। আমি কোনো সময়সীমার কথা বলছি না। যদি আর একটা লাশ পরে তাহলে কার পদ কী সেটা দেখার মতো ইচ্ছা আমাদের থাকবে না। ৪৮ বছরে বাংলাদেশের কপালের যত কলঙ্ক তার সবচেয়ে বড় টিকলি আওয়ামী লীগের কপালে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের আগের দিন ২৯ ডিসেম্বর রাত ৯টা থকে জনগণের ভোট কেটে ব্যালট বাক্সে ভরেছে সরকার। জনগণের ভোটাধিকার ডাকাতি করেছে তারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, যেহেতু ভোট ৩০ ডিসেম্বর না হয়ে ২৯ ডিসেম্বর হয়েছেÑ সেহেতু ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা না পর্যন্ত ফ্রন্ট আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে যাবে।