শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দাবানল এখন গোটা অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে দাবানলে এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসেই শুধু ৯ শতাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্র্তৃপক্ষ এই আগুন নেভাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে কয়েকটি দেশের সহায়তাও চেয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।
দীর্ঘমেয়াদি খরা পরিস্থিতি আর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উষ্ণতা বৃদ্ধিকে দাবানল দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা গত বছরের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু অন্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার সরকারও ওই শঙ্কা আমলে নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আজ অস্ট্রেলিয়ার সবকটি রাজ্যে জ¦লছে আগুন।
নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিস্থিতি সবচেয়ে বাজে। রাজ্যটির ঘন ঝোপ ও বনাঞ্চল ছাড়াও ব্লু মাউন্টেনের মতো জাতীয় উদ্যানে আগুন লেগেছে। এছাড়া মেলবোর্ন ও সিডনির মতো বড় শহরেও আগুনে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধোঁয়ায় শহরাঞ্চলের মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। অনেক শহরের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিচ্ছে সাগরবক্ষে ও সৈকতে। গত ডিসেম্বরে ধোঁয়ার মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, সিডনির বাতাসের মান সর্বনিম্নে চলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছরই গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে আগুনের ঘটনা ঘটে। এসব আগুন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক নিয়মে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতেও একইভাবে আগুন লাগে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার কারণ বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া অঙ্গার। ফলে আগুনের উৎস থেকে অনেক দূরেও আগুন লেগে যায়।
২০০৯ সালে ভিক্টোরিয়ার দাবানলে ১৭৩ জনের প্রাণহানি হয়। এবারের দাবানলে প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সম্পদ ধ্বংসের মাত্রা সর্বাধিক। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের মতে, গত ডিসেম্বর ছিল দেশটির ইতিহাসে সর্বাধিক উষ্ণ। কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়া নিকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হবে। দাবানলে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন মিলিয়ন হেক্টরের বেশি অঞ্চল পুড়ে গেছে। ভয়াবহ মাত্রায় বন্যা হলে এর চেয়েও বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি ক্ষতি মোকাবিলাতেই দেশটিকে অন্য দেশের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। বন্যার মতো পরিস্থিতি হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না জলবায়ু বিজ্ঞানীরা।