অষ্টম শ্রেণিতে যাওয়ার আগেই ঝরে পড়েছে ১২ হাজার শিক্ষার্থী

রাজশাহীতে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর বড় সংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে দিচ্ছে। বাচ্চারা কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় ছেড়ে দিচ্ছে লেখাপড়া। এ বছর জেএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হিসাব করতে গিয়ে উঠে এসেছে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী কমে গেছে। ২০১৬ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাস করার পর তারা লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উঠতেই ঝরে পড়ছে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী। কোনোমতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর পরই তারা কাজের সন্ধানে মাঠে নামছে। কাজ জুটেও যাচ্ছে। আর সেই আয়ই নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সহায়ক হচ্ছে।

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকার রিনা আক্তার। বয়স মাত্র ১০ বছর। কাজ করে মানুষের বাসায়। মাসে আয় হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। এই বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা কিন্তু পরিবারের চাহিদায় সেই পাট চুকিয়েছে রিনা। শুধু দারিদ্র্য তার সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। রিনা বলল, তারও ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করার। কিন্তু ফাইভ পাস করার পরই তাকে ছেড়ে দিতে হয় স্কুল। এখন মানুষের বাড়িতে কাজ করেই দিন পার হয়ে যায়। রিনার মতো আরও অনেকেরই এই দশা। রাহাদ, শিপন, শামিমের এখন পড়াশোনা বন্ধ। উপার্জনে নেমেছে সবাই। রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকার এসব শিশু এখন আর স্কুলে যায় না। ওই এলাকার নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে শিশুরা স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী নয়। একটু বড় হলেই ছেলেরা যায় মার্কেট কর্মী হিসেবে। আর মেয়েরা যায় মানুষের বাড়িতে কাজ করতে।

২০১৬ সালে যারা পিইসি বা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী দিয়েছিল তারাই ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে ২০১৯ সালে রাজশাহী জেলায় জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৪০ হাজার ৮৪১ জন। এর মধ্যে বালিকা ২১ হাজার ১০ জন ও বালক ৯ হাজার ৮৩১ জন।

অপরদিকে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে রাজশাহী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশ নেয় ৪৭ হাজার ৯৮০ জন। এদের মধ্যে বালক ২২ হাজার ৮৮০ জন ও বালিকা ছিল ২৫ হাজার ১০০ জন। এ ছাড়া ইবতেদায়িতে অংশগ্রহণ করে ৪ হাজার ২৯৫ জন।  আর বালক ছিল ২ হাজার ৪৭০ বালিকা ছিল ১ হাজার ৮২৬ জন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৬ সালে প্রাথমিক সমাপনী থেকে অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত  আসতেই ঝরে পড়েছে ১১ হাজার ৪ শত ৩৪ জন শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক বলেন, এটি দুঃখজনক যে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি আসতে একটি বড় মাপের শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

এটিকে কমানোর জন্য সরকারকে মেয়েদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ছেলেদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ মিড ডে মিল খাবার বিতরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করলে আরও উন্নতি হবে। যাতে করে অনেকটাই ঝরে পড়া কমবে।

রাজশাহীতে নারী ও শিশু এবং শিশুশিক্ষা নিয়ে কাজ করে অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)। এসিডির প্রকল্প সমন্বয়কারী মিরাজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে রাজশাহীর অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঝরে পড়ছে।