পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার কেশব ব্যানার্জি সড়ক সংস্কার হয় না বছরের পর বছর। পুরো রাস্তাটিতে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। জায়গায় জায়গায় পিচঢালা সুরকি উঠে মাটি বের হয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। রাস্তার ইট-সুরকি উঠে গিয়ে এমন দশা হয়েছে যে বৃষ্টি হলে প্রথম দেখায় মনে হয়, রাস্তার ওপর ছোট ছোট পুকুর। ফলে প্রায়ই এখানে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, পাশাপাশি প্রতিনিয়ত এখানে তৈরি হয় যানজট। এলাকার ব্যস্ততম এই সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ চলাচল করলেও এর বেহালদশা দেখার যেন কেউ নেই।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সড়কটি প্রতি বছরই ঠিক করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন জনপ্রতিনিধিরা, কিন্তু ঠিক আর হয় না। এটা রাস্তা নয়, এলাকার মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদ। সরেজমিনে দেখা যায়, কেশব ব্যানার্জি রোড থেকে গে-ারিয়া থানা পর্যন্ত রাস্তাটি অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। রাস্তাটি নির্মাণের পর আদৌ কোনো দিন সংস্কার করা হয়েছিল কি না তা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। এ ছাড়া রাস্তাটি লাগোয়া নর্দমারও বেহাল অবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাভেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এই রকম বেহালদশায়ই আছে। এই রোড দিয়ে কোনো যানবাহনই ভালোভাবে চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় অন্য এলাকা থেকে এই রোডের নাম বললে রিকশাচালকরা সহজে এই দিকে আসতে চায় না। যার জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয় এখানকার বাসিন্দাদের।’
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এলাকার আরেক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই রাস্তাটি ঠিকভাবে সংস্কার হয় না এলাকার জনপ্রতিনিধির জন্য। মেয়র যখন এই এলাকায় আসেন তার আগের দিন রাতে কোনোরকমভাবে ইট-বালুর প্রলেপ দিয়ে রাখা হয়। যেন রাস্তাটি যে খারাপ অবস্থায় আছে তা না বোঝা যায়। মেয়রকে ছদ্মবেশে এই এলাকায় আসা উচিত। তাহলে তিনি রাস্তাটির বাস্তব চিত্র দেখতে পারবেন।’
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদ উল্লাহ মিনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাস্তাটি অনেক দিন ধরে খারাপ অবস্থায় আছে। এ বিষয়ে আমি কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সামনের নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এই রাস্তার কাজে দ্রুত হাত দেব।’