ইরানি আল-কুদস বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় ইরানের কিছুই হবে না। সুলেইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গ্রুপ, কুদস বাহিনীসহ আঞ্চলিক অনেক যোগযোগের প্রধান হলেও তার মৃত্যুতে রেভল্যুশনারি ফোর্স অথবা আশপাশের এলাকায় ইরানের ভূমিকায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
নিউইয়র্ক টাইমস এর এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছেন অধ্যাপক নারজস বাজোগিল। তিনি ‘ইরান রিফারমড: অ্যাংসাইটিস অব পাওয়ার ইন দ্য ইসলামিক রিপাবলিক’ বইয়ের লেখক।
তিনি ২০০৮ সালে হিজবুল্লাহ নেতা ইমাদ মুগনিয়ানকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়নি- বরং উল্টোটাই ঘটেছে। একইভাবে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে একের পর এক পরিকল্পিত হামলায়ও তারা কাবু হয়নি। এই দুই সংগঠনের তুলনায় রেভল্যুশনারি গ্রুপ বা ইসলামিক রিপাবলিক অনেক বড় ও শক্তিশালী।
তিনি আরো লেখেন, রেভল্যুশনারি গার্ডের কাঠামো বুঝতে হলে ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাক-ইরান যুদ্ধের দিকে তাকাতে হবে। এটি ছিল বিশ শতকের সবচেয়ে বড় ও বিতর্কিত যুদ্ধ, যে সময়ে গার্ড তাদের যুদ্ধ মোকাবিলার সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের শৃঙ্খলা গড়ে তুলেছিল। ইরাকের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের সহযোগিতায় সমৃদ্ধ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা শিখেছে কীভাবে অসম শক্তির সঙ্গে লড়তে হয়, যে কৌশল এ পর্যন্ত অব্যর্থ বলে আমরা মনে করছি।
ইরানে তার ১০ বছর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এই অধ্যাপক আরো লেখেন, রেভল্যুশনারি গার্ড এবং ইরানের গণমাধ্যমে তাদের উপস্থাপনার মধ্যে আমি দেখতে পেয়েছি যেখানেই তারা অপারেশন পরিচালনা করুক, ইরানে অথবা বাইরের যুদ্ধক্ষেত্রে, তারা দুই ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বকে কাজে লাগায়; কোনো সিদ্ধান্ত বা কোনো তৎপরতা কেবল এক ব্যক্তি থেকে আসে না অথবা কোনো ছোট গ্রুপ থেকে আসে না, ওই সংগঠনের অনেকেরই নিজেদের মধ্যে কৌশল নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত নেয়ার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে।
সোলেইমানি বিষয়ে তিনি লেখেন, ইরানের অভ্যন্তরে সোলেইমানি সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। পারসি ও অ্যারাবিক ভাষায় নির্মিত সিনেমা, প্রামাণ্যচিত্র, মিউজিক ভিডিওতে তাকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে এক বিরাট যোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেবানন ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত ইরানের যে প্রভাব, সেখানে তিনি সেই মুখচ্ছবি যার মাধ্যমে অর্থ, অস্ত্র আর উপদেশ আসে। আমার মনে হয়, পশ্চিমা মিডিয়া জানেই না তার মতো এমন ব্যক্তিত্বের আরো নেতা তাদের রয়েছে।
তিনি লেখেন, রেভল্যুশনারি গার্ড এবং ইরাক ও লেবাননের অস্ত্রধারী শিয়া গোষ্ঠীর সম্পর্ক অনেক গভীর। আমি ইরান ও লেবাননে অনেক বিদেশি বিদ্রোহীর সঙ্গে কথা বলেছি। যারা পারসি ভাষায় দিব্যি কথা বলে যাচ্ছিল, যাদের পরিষ্কার ধারণা আছে রেভল্যুশনারি গার্ড কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে। এসব গোষ্ঠীর অনেকেরই নিজেদের মধ্যে বিয়ে, বাণিজ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। জেনারেল সুলেইমানি নিজে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তিনি একাই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নন।
‘ইরান ও তার দেশের জনগণের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। একে হত্যা বা মিসাইল মেরে উন্মূল করা যাবে না’।