পেঁয়াজের ঘাটতি নেই তবু দাম চড়া

শৈত্যপ্রবাহ ও বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন অনেক চাষি ক্ষেত থেকে কম পেঁয়াজ তুলেছেন। তবে এ সময়ে বাজারে আগে সরবরাহ হওয়া পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিক দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদক এলাকা ফরিদপুর ও পাবনায়ও গতকাল ১১০-১৫০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও প্রশাসনের তদারকিতে পণ্যটির দাম কিছুটা কম ছিল। তবে মুনাফালোভী চক্রের প্রভাবে বাজারের অস্বাভাবিক আচরণে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা আর বিভ্রান্ত কৃষক ও বিক্রেতারা। বাজার নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত দাম বেঁধে দেওয়াসহ নজরদারি বাড়ানোর দাবি ক্রেতাদের।

দেশ রূপান্তরের পাবনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও বৈরী আবহাওয়া, সরবরাহ সংকটসহ নানা অজুহাতে পাবনায় নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজার। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমলেও, অসাধু চক্রের কারসাজিতে ক্রমাগত ওঠা-নামা করছে পণ্যটির দর। গত শুক্র ও শনিবার পেঁয়াজের দাম ২০০ ছাড়ায়। তবে গতকাল রবিবার বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০-১৪০ টাকা। অকাল বন্যায় রোপণে কিছুটা দেরি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনে আজন্ম লোকসানের সঙ্গে পরিচিত পাবনার চাষিদের এবার লাভের অঙ্ক ছাড়িয়েছে সর্বকালের রেকর্ড। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে মাঠে পেঁয়াজ তোলায় চাষিদের এখন দারুণ ব্যস্ততা।

চাষিরা বলছেন, এবার পেঁয়াজের যে দাম তাতে লোকসান হচ্ছে না কারো। মণপ্রতি ৩৫০০-৪০০০ টাকা পেলেই তারা ভালো লাভ পাবেন। মৌসুমের শুরু থেকে এমন দাম পেলেও, গত কয়েক দিন মণপ্রতি ২-৩ হাজার টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৬-৭ হাজার টাকা।

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এলাকার কৃষক আবু তাহের জানান, শৈত্যপ্রবাহ ও বৃষ্টির কারণে শুক্র ও শনিবার আমাদের গ্রামের চাষিরা পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে তুলতে পারেনি। কম উত্তোলন করায় বাজারে সরবরাহ কম হয়েছে। এই সুযোগে অসাধু চক্র গুজব ছড়িয়ে বাজারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি মহিদুল হক বলেন, গত মঙ্গলবার আমি ৪ হাজার টাকা মণ দরে দুই বিঘা জমির পেঁয়াজ বিক্রি করেই প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছি। আমার জীবনে কখনো পেঁয়াজের এমন দাম দেখিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ীর অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বছর পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ২৭৫ হেক্টর। এর মধ্যে ৪ হাজার হেক্টর জমির পেঁয়াজ তোলা হয়েছে। এখনো মাঠে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির পেঁয়াজ। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই হালি পেঁয়াজও বাজারে উঠতে শুরু করবে। সে পর্যন্ত সরবরাহ সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। গুজব ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, সরবরাহ কম থাকার সুযোগে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলেন। এ ব্যাপারে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। রবিবার দুপুর থেকেই দাম অনেক কমে এসেছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন আরও কঠোর হবে।

ফরিদপুরে বাজারে পেঁয়াজের দর ওঠা-নামা : জেলার বাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করছে। গতকাল কয়েকটি বাজারে পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা খুচরায় ছিল ১৩০-১৫০ টাকা।

শহরের হাজী শরীয়াতুল্লাহ বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মা লক্ষ্মী ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী অধৈত সাহা জানালেন, বৃষ্টিতে পেঁয়াজের ক্ষেত ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেকে পেঁয়াজ তুলে বাজারে সরবরাহ করতে পারেনি। এতে দাম বেড়েছে।

সততা বাণিজ্য ভান্ডারের মালিক সঞ্জয় সাহা জানান, গতকাল পেঁয়াজের দর কিছুটা কমেছে। তিনি জানান, মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৩৬০০-৪০০০ টাকা। গত কয়েক দিন বাজারের পেঁয়াজের আমদানি কম ছিল। গতকাল আমদানি কিছুটা বেড়েছে।