লোকসানের কলঙ্ক ঘুচল মধ্যপাড়া পাথরখনির

পাথর উত্তোলন শুরুর এক যুগ পর দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ উৎপাদনশীল পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনি লোকসানের কলঙ্ক মুছে দেখল লাভের মুখ। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খনির মুনাফা হয়েছে ৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকা।

খনি সূত্র জানায়, উত্তর কোরীয় কোম্পানি নামনামের সহায়তায় ২০০৭ সালের ২৫ মে খনির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন শুরু করে মধ্যপাড়া পাথরখনি। একই ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন চলে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ২০ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হয়। দৈনিক তিন শিফটে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন করে পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সাত বছরেও তিন শিফট চালু করা সম্ভব হয়নি। এ সময়ে মধ্যপাড়া পাথরখনির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-টেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ছয় বছরের জন্য খনির উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বভার নিয়ে উৎপাদন শুরু করে। কয়েক মাসের মাথায় দৈনিক তিন শিফটে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করতে সক্ষম হয়। প্রায় দেড় বছরের মধ্যে খনির উন্নয়ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশি মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশের অভাবে খনি থেকে পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় জিটিসি। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অত্যাধুনিক মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে ভূগর্ভে স্থাপনের পর মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জিটিসি প্রতি মাসেই অতিক্রম করে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখে। চুক্তির অর্ধেক সময়ে অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করেছে প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া খনির নয়টি ইয়ার্ডে বিভিন্ন সাইজের প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুদ রয়েছে।

খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খনির উন্নয়ন ও পাথরের উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ায় এক যুগের লোকসানের গণ্ডি পেরিয়ে লাভের মুখ দেখছে। খনিটি সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বিশেষ অবদান রাখছে বলে মনে করেন তিনি।