১৪ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ

নগরবাসীর বিনোদনের জায়গার অভাব ঘোচাতে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নামে ২০০৫ সালে সিলেটে একটি শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি অর্থ বরাদ্দের পর ২০০৬ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। অর্ধেকেরও বেশি কাজ শেষ হওয়ার পর সরকার পরিবর্তন হলে থেমে যায় পার্কটির নির্মাণকাজ। পরে প্রায় এক দশক পরিত্যক্ত থাকার পর ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এর নাম পরিবর্তন করে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশুপার্ক’ নামে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়। নতুন করে অর্থও বরাদ্দ দেয় সরকার। তখন বলা হয়েছিল, পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করে পার্কটি খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু এরপর প্রায় আড়াই বছর কেটে গেলেও পার্কটি এখনো চালু হয়নি। এ পরিস্থিতিতে সিসিকের প্রকৌশল শাখা বলছে, পার্কটি চালু হতে আরও অন্তত ২ মাস সময় লাগবে।

সিসিক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট নগরীতে শিশুদের বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ২০০৫ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং সিলেট-১ (সদর) আসনের সাংসদ এম সাইফুর রহমান একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সিসিককে নির্দেশ দেন। এর আলোকে সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে আলমপুরে ৩ দশমিক ৭৭ একর জমি পার্কের জন্য গণপূর্ত বিভাগ বরাদ্দ দেয়। আর অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয় ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এম সাইফুর রহমানের নামে নামকরণ করে পার্কটির কাজ শুরু হয়। মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপন ও তোরণ নির্মাণসহ অনেক কাজ শেষ হয়। তবে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড বসানোর কাজ বাকি ছিল। ওই সময় সরকার পরিবর্তন হলে পার্কের নির্মাণকাজ থেমে যায়। রাইড বসানোর জন্য বরাদ্দকৃত টাকাও ফেরত চলে যায়। এভাবে কাটে বছরের পর বছর। অসম্পূর্ণ পার্কটি বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। এমনকি পার্কের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের মূল্যবান অনেক জিনিসও চুরি হয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ আবুল মাল আবদুল মুহিত পার্কটির অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে তা চালুর নির্দেশ দেন এবং এজন্য নতুন করে প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। এই পার্ক নির্মাণে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সিসিক কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালের নভেম্বরে পার্কে রাইড বসানোর কাজ শুরু হয়। সেখানে মনোরেল, ম্যাজিক প্যারাসুট, বাম্পারকার, ফ্রুট ফ্লাইং চেয়ার, জাম্পিং ফ্রগ ও ভিজিটিং ট্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের রাইড বসানো হচ্ছে। রাইড বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

পার্কটি কবে নাগাদ চালু হতে পারে তা জানতে চাইলে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পার্কে শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক ও নিরাপদ রাইড বসানো হয়েছে। এগুলো এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পার্কটি চালু হতে আরও অন্তত ২ মাস সময় লাগবে।’