বিশ্বব্যাপী বাড়ছে জনসংখ্যা। আবাসনের বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বিচারে বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে। গাছের সংখ্যা কমতে থাকায় জলবায়ুতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব। জলবায়ুজনিত নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে প্রকৃতিতে। এই সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের করাচিতে একটি নতুন প্রকল্প চালু হয়েছে।
জাপানের বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে অল্প স্থানে অনেক গাছ লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে কৃত্রিম জঙ্গল। করাচি শহরের দুটো বিষয় উল্লেখযোগ্য। এর একটি হলো বিপুল পরিমাণ যানবাহন ও এ থেকে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া। আর অন্যটি হলো কংক্রিটের জঙ্গল। প্রায় ১৫ লাখ জনগোষ্ঠীর এই শহরে মানুষের তুলনায় জনসম্পদ পর্যাপ্ত নেই। আবাসিক এলাকাগুলোতে নেই গাছ লাগানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা।
করাচির এনইডি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নোমান আহমদ বলেন, ‘করাচির পুরনো এলাকাগুলোতে খেলার জন্য মাঠ আর পার্ক রাখার দরকার ছিল। আমাদের পরিকল্পনা অনুসারে মেট্রোপলিটন এলাকার অন্তত ১০ শতাংশ জায়গা পার্কের জন্য রাখার কথা ছিল।’
বর্তমানে করাচি শহরে ১৭৮টি ছোট-বড় পার্ক রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, করাচিতে অন্তত আড়াই হাজার পার্ক থাকা দরকার। অধ্যাপক নোমানের মতে, অধিকাংশ পার্কই দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা।
২০১৭ সালে শাহজাদ কুরেশি নামে এক বাসিন্দা তার এলাকায় আরবান ফরেস্ট গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। জাপানি বিজ্ঞানী আকিরা মিকাওয়াকির পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি কম জায়গায় অনেক গাছ লাগিয়ে শহরের মধ্যেই বনাঞ্চল সৃষ্টি করেন। প্রকল্প শুরুর এক বছর চার মাসের মাথায় জঙ্গল দৃশ্যমান হতে শুরু করে। এই জঙ্গলে লাগানো হয় স্থানীয় উদ্ভিদ ও স্থানীয় পর্যায়ে সংগৃহীত জৈব সার।
শাহজাদ কুরেশির মতে, অক্সিজেন উৎপাদন ও বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিতে এই আরবান জঙ্গল ভূমিকা পালন করবে। পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলেও এখন শাহজাদের অনুকরণে অনেকে জঙ্গল তৈরি করতে শুরু করেছেন। অনেকেই আবার জঙ্গলের মতো করে বিভিন্ন সবজির চাষ করছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সবজি চাহিদাও মিটছে।