যমুনায় বঙ্গবন্ধু রেলসেতু

নির্মাণকাজ উদ্বোধন ১৭ মার্চ

যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতু নির্মাণে প্রায় সোয়া ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আগামী ১৭ মার্চ এ সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হবে।

গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ব্যয় বাড়ার প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান ওই কমিটির প্রধান ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ব্যয় বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাজের পরিমাণ বাড়ায় ব্যয় বাড়ছে। কোন ধরনের কাজ বেড়েছে, তা মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে একনেক সভায় আলোচনা হবে।

সরকারের গত মেয়াদে পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, বাড়তি ব্যয়ের পুরো অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে জাপানভিত্তিক জাইকা।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সড়কসেতুর একপাশ দিয়ে রেল চলাচল করছে। এ সেতু নির্মাণের মূল নকশায় রেলসেতু ছিল না। পরে এক পাশ দিয়ে রেল চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এতে সেতুর ওপর দিয়ে রেল চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, তেমনি সড়কের নিরাপত্তাও বিঘিœত হচ্ছে। এ অবস্থায় যমুনা নদীর ওপর পৃথক রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

রেলসেতু নির্মাণে ২০১৬ সালে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। এখন তা বেড়ে হলো ১২ হাজার ৯৫০ কোটি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৭ টাকা। ব্যয় বাড়ার প্রস্তাবসহ প্রকল্পটির আবার ডিপিপি করতে হবে, আবার একনেকে যাবে। একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর আর ক্রয় কমিটিতে আসতে হবে না। অবশ্য রীতি অনুযায়ী ডিপিপি তৈরির পর প্রকল্প অনুমোদন হয়। তারপর ব্যয়ের প্রস্তাব আসে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। প্রকল্প সংশোধনের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম মানা হয়। এ খাতে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কামাল বলেন, আমরা কাজে গতি আনতে চাই। এজন্য পদ্ধতি সহজ করতে হবে। ব্যয় অনেক বাড়ায় একনেকে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এটা দেখা উচিত। পর্যালোচনা করে একনেক অনুমোদন দিলেই হবে, না দিলে হবে না।