উত্তরের হিমেল হাওয়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে শীতের তীব্রতা। এতে বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই। এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শীতজনিত রোগী, বিশেষ করে শিশুদের ভিড় বেশি। আবার সূর্যের আলো কম পাওয়ায় ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলায় ধানের চারায় দেখা দিচ্ছে হলুদ আভা। ফ্যাকাশে হওয়ায় সরিষার ফুলে মধু আহরণকারী মৌমাছি বা পতঙ্গ না আসায় কৃষক শঙ্কায় আছেন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
নীলফামারী : টানা শীতে সবুজের পরিবর্তে হলুদ বর্ণ ধারণ করায় নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা। ঘন কুয়াশা আর শীত থেকে রক্ষায় সারা রাত পলিথিন ঢেকেও এসব বীজতলা রক্ষা করতে পারছেন না কৃষক। জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের পাটকামুড়ি গ্রামের কৃষক পরেশ চন্দ্র রায় (৪৫) জানান, শীত ও ঘন কুয়াশায় সে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে হিমেল বাতাসে জেঁকে বসা শীতে বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই। নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েও আসছে শিশুরা। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু সফি মাহমুদ জানান, এ সময় একটু সতর্ক থাকতে হবে।
লালমনিরহাট : ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বীজতলা ফ্যাকাশে রং ধারণ করায় আসন্ন বোরো আবাদ নিয়ে বেশ শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাটের কৃষক। বোরো চাষাবাদ নিয়ে এখনই কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের কপালে। বীজতলার অনেক চারাগাছ মরে যেতে শুরু করেছে। আদিতমারী উপজেলার আদিতমারী বসিনটারী গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, অনেক চারাগাছ শীতের প্রকোপে মারা গেছে।
টাঙ্গাইল : বৃষ্টি, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সরিষা আবাদে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা চলতি বছর সরিষা ফলন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে বলে টাঙ্গাইলের কৃষি বিভাগে দাবি করেছে। কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর গ্রামের ফজল জানান, বৃষ্টিতে ফুল থাকা স্থানীয় জাতের সরিষার গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষেতে সরিষার ফুলে মধু আহরণকারী মৌমাছি বা পতঙ্গ না আসায় ফুলে পরাগায়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক স্থানে পাপড়িও পচে ঝরে গেছে।
দিনাজপুর : বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। শীতের কারণে ধানের বীজতলা সঠিকভাবে বেড়ে না ওঠায় ধানচাষে ঝুঁকিতে আছেন তারা। কুয়াশা আর শীতের কারণে ধানের বীজতলায় দেখা দিয়েছে হলুদ ও বিবর্ণ আকৃতি। কৃষকরা মনে করছেন, এমন শীত আর কুয়াশা থাকলে এবার জমিতে অনেকেই ধান লাগাতে পারবে না।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : ঠাণ্ডাজনিত রোগে শিশুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে। কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কমলগঞ্জের জনজীবন। কয়েক দিন ধরে হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশিজনিত রোগের প্রকোপ।