সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায় প্রার্থী-ভোটার

 

১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের বিষয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে। ইতিমধ্যে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন খান বলেন, চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো ইভিএমে হাইমচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন স্থান ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নয়জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী ইসহাক খোকন (ধানের শীষ) এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মোতালিব জমাদার (আনারস) ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনীত জিএম ফজলুর রহমান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (তালা), খোকন ভূঁইয়া (টিয়াপাখি), জহির আহাম্মদ (টিউবওয়েল), জাহাঙ্গীর হোসেন (মাইক), তাফাজ্জল মাল (বৈদ্যুতিক বাল্ব), ওয়াসিম পাটওয়ারী (চশমা), মো. কাসেম (বই) এবং খোরশেদ আলম (উড়োজাহাজ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনীত ফাতেমা বেগম (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহানাজ বেগম (হাঁস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘বিগত সময়ে আমি উপজেলার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি। আমার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ উপজেলার জনগণ আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে বলে আশা করি।’

বিএনপির প্রার্থী ইসহাক খোকন বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই। নির্বাচনের দিন ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারলে আমি জয়ী হব বলে আশা করি।’

বিদ্রোহী প্রার্থী মোতালিব জমাদার বলেন, ‘আমি জনগণের দাবি নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। কিন্তু ইতিমধ্যে আমি ও আমার নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছি। আমি নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা করছি। নির্বাচনে “লেভেল প্লেইং ফিল্ড”র দাবি জানাচ্ছি। কোনো অবস্থাতেই আমি নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে যাব না।’

এ ব্যাপারে একাধিক সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিনিধির। তারা বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করি, যাতে করে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাইমচর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো অবস্থায়ই নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ৮০ হাজার ২৩৪ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন খান বলেন, ৩১ কেন্দ্রের সবগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ইভিএম পদ্ধতি ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।