দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাজুল ইসলামকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত তার কার্যালয় ও বাসভবনে আভিযান চালিয়ে ৪টি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা ওই টাকাগুলো উদ্ধার করে দুদক। দিনাজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংস্থাটির ৭ সদস্যের একটি দল এ অভিযানে অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয় দুদকের দলটি। এ সময় পিআইও তাজুল ইসলাম তার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। কার্যালয় থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করে তাজুলের সরকারি কোয়ার্টারে তল্লাশি করেন দুদক কর্মকর্তারা। সেখানে তার বাসার খাটের নিচে রাখা ৪টি ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান পান দুদক সদস্যরা। পরে রাত পৌনে ৭টার দিকে অগ্রণী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে টাকা গণনার যন্ত্র এনে তাজুলের বাসায় পাওয়া টাকা গণনা করা হয়। যার পরিমাণ ১ কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) দবির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী
ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাকা গণনা শেষে তাজুলকে গ্রেপ্তার করে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার তাজুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১ জুলাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে পার্বতীপুরে যোগ দেন। এর আগে তিনি ফুলবাড়ী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের নাজিরা খলিলগঞ্জ গ্রামে।
দিনাজপুর দুদকের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গোপন সূত্রে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পিআইও তাজুল ইসলামের বাসা ও কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সাড়ে তিন বছরে পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অবৈধভাবে এসব অর্থ সরিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ তাজুলের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান দুদক কর্মকর্তা আবু হেনা আশিকুর রহমান।
তাজুলের বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলার টিআর, কাবিখা, গৃহনির্মাণ, সোলার ক্রয়সহ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিতেন তাজুল।