বাড়ির পাশে বস্তার ভেতর নিখোঁজ শিশুর চোখ ওপড়ানো লাশ

সুনামগঞ্জ তাহিরপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর বাড়ির পাশেই তোফাজ্জল হোসেনের (৭) বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলার বাশঁতলা গ্রামে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি বস্তার ভেতরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত তোফাজ্জল হোসেন উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাঁশতলা গ্রামের জুবায়েল হোসেনের ছেলে।

সে বাঁশতলা দারুল হেদায়েত মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের কালা মিয়া (৬০) ও তার ছেলে সেজাউল কবিরকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, গত বুধবার বিকেলে তোফাজ্জল মাঠে খেলতে গিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেনি। নিখোঁজের পর অপহরণ সন্দেহে পরদিন বৃহস্পতিবার স্বজনরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শনিবার ভোরে তোফাজ্জলের পার্শ্ববর্তী ঘর হবি মিয়ার ঘরের পেছনে একটি সিমেন্টের বস্তা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে বস্তার ভেতর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, শিশুটির মরদেহ বস্তার ভেতর পাওয়া গেছে। তার ডান চোখ তুলে নেওয়া হয়, মাথায়ও আঘাত রয়েছে।

নিহত তোফাজ্জাল হোসেনের মা রিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ননদকে একই  গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সেজাউলের কাছে বিয়ে দিয়েছি। বিয়ের পর থেকেই তাদের ঝগড়া-ঝাটি লেগে আছে এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে কালা মিয়া ও তার ছেলে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সঙ্গে রাগারাগি করে। পরে আমার শ্বশুর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তারপরই ওরা আমার ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করেছে।’

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, শিশু অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত রয়েছে বিষয়টি তদন্ত চলছে। তবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের কালা মিয়া ও তার ছেলে সেজাউল কবিরকে আটক করা হয়েছে।