ইতিহাস গড়া জয়ে লিগ পর্ব শেষে শীর্ষে খুলনা

হারলে খেলতে হবে এলিমিনেটর ম্যাচ। এমন সমীকরণ নিয়ে শনিবার বঙ্গবন্ধু বিপিএলের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকা প্লাটুন ও খুলনা টাইগার্স। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে টস হেরে আগে ব্যাট করে প্রতিপক্ষকে ২০৬ রানের লক্ষ্য দিল ঢাকা। প্রথম ইনিংস শেষেই কী তাতে লেখা হয়ে গেল ম্যাচের ভাগ্য? বিপিএলের ইতিহাসে যে দু শ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কারো।

কিন্তু এদিন আসলে খুলনা মাঠে নেমেছিল ইতিহাস গড়তে। দলটির পক্ষে আসরে দেশিদের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেই প্রথম শতক।

দারুণ ব্যাটিং করলেন মেহেদী হাসান মিরাজও। এই দুইয়ের ব্যাটেই বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতল খুলনা। ১১ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের এই দাপুটে জয়ে শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ হলো মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন দলের।

তাতে কোয়ালিফায়ার ম্যাচ নিশ্চিত হলো খুলনা ও রাজশাহী রয়্যালসের। অর্থাৎ ফাইনালে ওঠার পথে একবার হারলে আরেকটি সুযোগ পাবে তারা। আর চারে থেকে লিগ পর্ব শেষ হলো ঢাকার। তাদের খেলতে হবে এলিমিনেটর ম্যাচ।

সোমবার তিনে থাকা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ঢাকা। একই দিন দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে খুলনা ও রাজশাহী। এই ম্যাচে হারা দল এলিমিনেটর ম্যাচে জয়ীদের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলবে বুধবার।

ঢাকার হয়ে এদিন চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলেন মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে ঢাকা। সেখান থেকে মুমিনুল ও মেহেদীর ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৪ উইকেটে ২০৫ রানের পুঁজি গড়ে দলটি।

মুমিনুল হক ৫৯ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলেছেন। মেহেদী অপরাজিত ৬৮ রান করেন ৩৬ বলে। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ১৫৩ রান।

মুমিনুল যেভাবে এগোচ্ছিলেন তাতে জেগেছিল সেঞ্চুরির আশা। কিন্তু মোহাম্মদ আমিরের করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে ফ্র্যাইলিঙ্কের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ৪১ বলে ফিফটি পূরণ করেছিলেন। যখন আউট হলেন তার ইনিংসে তখন ছিল ৭ চার ও ৪ ছক্কা। মেহেদী ফিফটি পূরণ করেন ৩১ বলে। ৩ চার ও ৫ ছক্কায় তিনি নিজের ইনিংস সাজান।

এ ছাড়া এনামুল হক বিজয় ১০ ও জাকের আলি ১৪ রান করেন। থিসারা পেরেরা অপরাজিত ছিলেন ৬ রানে। ব্যর্থ ছিলেন তামিম ইকবাল। মাত্র ১ রান করেন এই ওপেনার।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ওপেনিং জুটিতে যোগ করেন ৭০ রান। মিরাজ ২৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৫ রানে থামেন। এরপর এক প্রান্তে প্রথমে রাইলি রুশো ও পরে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে যা করার করেছেন শান্ত।

টি-টোয়েন্টি যার আগের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ছিল অপরাজিত ৫৪, সেই তিনিই এবার সেঞ্চুরি হাঁকালেন বিপিএলের মঞ্চে। শান্তর সেঞ্চুরি তাই তার নিজের জন্যও প্রথম।

৫১ বলে ৭ চার ও ৬ ছক্কায় সেঞ্চুরি পূরণ করেন শান্ত। শেষ পর্যন্ত তার ৫৭ বলের ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৭ ছক্কা।

এর আগে এবারের আসরে দুটি সেঞ্চুরি দেখেছে দর্শক। দুটিই ছিল বিদেশিদের ব্যাটে। প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন সিলেট থান্ডারের আন্দ্রে ফ্লেচার (১০৩*)। দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি আসে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের ডেভিড মালানের ব্যাট থেকে।

বিপিএলের সব আসর মিলে শান্ত দেশিদের মধ্যে পঞ্চম সেঞ্চুরিয়ান। এর আগে সেঞ্চুরি করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, সাব্বির রহমান ও তামিম ইকবাল।

ম্যাচসেরা হয়েছেন শান্ত।