ইন্দুরকানীতে কবিরাজের অপচিকিৎসায় পশ্চিম বালিপাড়া বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রণির ছাত্র হামিম ফরাজির (১১) হাত কেটে ফেলতে হয়েছে।
স্কুলছাত্রের পরিবার ও স্বজনরা জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ইন্দুরকানীর পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের আলমগীরের ছেলে হামিম ফরাজি ব্যাডমিন্টন খেলার সময় পড়ে গিয়ে হাতে ব্যথা পায়। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করেন কবিরাজ আলী আকাব্বর সরদার। কিন্তু তার হাতের অবস্থা আরও খারাপ হলে নেওয়া হয় গ্রাম্য চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের কাছে। তিনি হামিম ফরাজির হাতের অবস্থা দেখে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর স্বজনদের আর্থিক সহযোগিতায় তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়।
হামিমের বড় বোন রোকসানা পঙ্গ হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার ভাই ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেলে স্থানীয় কবিরাজ আলী আকাব্বর সরদারের কাছে নেওয়া হয়। তিনি ওই হাতে লতাপাতা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেন। এরপর ওই হাতে পচন ধরলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসি। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আমার ভাইর হাতের অবস্থা খারাপ দেখে গত ৩ জানুয়ারি তার ডান হাত কেটে ফেলেন। বর্তমানে ওখানেই চিকিৎসাধীন হামিম।
এ ব্যাপারে কবিরাজ আলী আকাব্বর সরদারকে বারবার চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতি বলেন, ‘আলী আকাব্বর সরদার নামে স্থানীয় এক কবিরাজের অপচিকিৎসায় হামিমের হাতে পচন ধরে। পরে ঢাকায় নিয়ে গেলে হাতটি কেটে ফেলতে হয়।’
পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক হাসিবুজ্জামান বলেন, কবিরাজ এমনভাবে আটসাঁটো বাঁধ দিয়েছে যে তার হাতের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে যখন পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসে ততক্ষণে ওই হাতটি মরে গেছে। হাতটিতে এমনভাবে পচন ধরেছিল যে সেটি রাখা সম্ভব হয়নি।