হাওরে বেশিরভাগ বাঁধের কাজ শুরু হয়নি

সুনামগঞ্জে নির্ধারিত সময়ের ২৮ দিন পার হলেও বেশির ভাগ হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। এ ছাড়া ছূড়ান্ত হয়নি পুরো জেলার বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গঠনের কাজ। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে পুরো জেলায় ৭২০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩৯৪টির কাজ শুরু হয়েছে। তবে বেশির ভাগ হাওরের বাঁধের কাজ যথাসময় শুরু না হওয়ায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। অকাল বন্য আর পাহাড়ি ঢলের কবল থেকে ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরুর দাবি কৃষকদের। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন হাওর থেকে পানি ধীরে নামায় প্রকল্প নির্ধারণে সমস্যা হওয়ায় কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এদিকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বাঁধের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

হাওরে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে যাতে কোনো অনয়িম না হয় সে জন্য গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এমরান হোসেনকে প্রধান করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে যাচাই-বাছাই কমিটি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত হাওরে বাঁধের কাজের জন্য ৭২০টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৮টি প্রকল্প জেলা কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে ৬৭৮টি। এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে ৩৯৪টি প্রকল্পে। প্রতিটি প্রকল্পে একটি পিআইসি কাজ করবে। নীতিমালা অনুযায়ী, হাওরের প্রকৃত কৃষক ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি পিআইসি গঠন করা হয়। বাঁধের কাজে এ পর্যন্ত ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দের চাহিদা আছে ১২৭ কোটি টাকা।

তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, এখানে সবচেয়ে বেশি ফসলি জমি শনির হাওরে। কিন্তু এই হাওরে এখনো বাঁধের দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই। এ ছাড়া এখনো অনেক জায়গায় প্রকল্প বাস্থবায়ন কমিটিই গঠন হয়নি।

‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, প্রশাসন ও পাউবো হাওরে যে পরিমান বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার হিসাব দিয়েছে দৃশ্যত তেমন কোনো কাজই শুরু হয়নি। হাওরের ৮০ শতাংশ কাজ এখনো রয়ে গেছে। সুনামগঞ্জের মানুষ বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ যথাযথভাবে নির্মাণ না হলে কৃষকের ফসল ঝুঁকির মুখে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোডের্র নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, হাওর থেকে পানি ধীরে নামায় প্রকল্প নির্ধারণে সমস্যা হওয়ায় কিছু প্রকল্পে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাঁধের কাজ শেষ করা হবে।

হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, ‘আমরা শিগগিরই মাঠে নামব। প্রতিটি প্রকল্পে আমাদের পা পড়বে। প্রতিটি কাজ যাচাই-বাছাই করা হবে। হাওরে যাতে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ কিংবা প্রকল্প করে কোনো অনিয়ম না হয় সে জন্য আমরা যাচাই-বাচাই কমিটি করেছি। কাজে অবহেলা বা অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বাঁধের কাজ শুরু করতে হবে।’

হাওরে বাঁধ নির্মাণের নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।