পরিবহন সংকটের কারণে দুর্ভোগ ও ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। জেলা শহর মাইজদী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের ক্যাম্পাসে ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে অধিকাংশকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও এর সমাধানের কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দাবির মুখে মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে থাকলেও সেটি নামেমাত্রই বলা চলে। কোনো ফলপ্রসূ উদ্যোগ নয়।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই একমাত্র আবাসিক হলটি বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে জেলা শহর মাইজদী ও আশপাশের মেসে থাকতে হয়। ফলে তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝেমধ্যে একাডেমিক কাজসহ বিভিন্ন কাজেও ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করতে হয়।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য মোট ১৯টি বাস রয়েছে। যার মধ্যে ৮টি বিআরটিসির লাল বাস এবং ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস। বাসগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ জন করে। প্রতি বছর নতুন করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সমস্যার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, আগে তারা দাঁড়িয়ে বাসে চলাচল করার সুযোগ পেলেও এখন নাকি সেই সুযোগটাও পাচ্ছেন না।
সরেজমিন দেখা গেছে, আসনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বাসগুলোতে চড়েছেন। এর মধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে বাদুড়ঝোলা অবস্থায় দেখা গেছে। আবার অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে দরজার পাশেই অবস্থান নিয়েছেন। অনেক ছাত্রীকে ভিড় ঠেলে বাসে উঠতে দেখা গেছে।
একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন শহর থেকে যাতায়াত করে ক্লাস করতে হয়। যাতায়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ও স্থানীয় যানবাহন একমাত্র উপায়। কিন্তু বাসে যাওয়া-আসার সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রায় সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় এতটাই ভিড় থাকে যে, দাঁড়িয়েও যাতায়াত করা সম্ভব হয় না।