ভবিষ্যৎ ক্রিকেট তারকাদের বিশ্বকাপ আজ থেকে

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩তম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ। ১৯৮৮ সালে শুরুর ১০ বছর পর থেকে নিয়মিত হয়েছে যুবাদের এই আসর। ভবিষ্যৎ ক্রিকেট তারকাদের সূতিকাগার এটি। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই উঠেছেন বর্তমানে ক্রিকেট মাঠ আলো করে রাখা অনেকে। এবারও ১৬ দলের মধ্যে এমন কারও বা কয়েকজনের খোঁজ থাকবে। শেষ পর্যন্ত কারা ক্রিকেট ভবিষ্যৎকে আলোকিত করবেন তা জানা যাবে ৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনালের মধ্য দিয়ে। টুর্নামেন্টের প্রথম দিন স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আফগানিস্তানের। এই গ্রুপের বাকি দুই দল কানাডা ও আরব আমিরাত।

আসরের দ্বিতীয় দিন মাঠে নামবে বাংলাদেশের যুবারা। পচেফস্ট্রুমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচ দিয়ে শুরু আকবর আলীদের অভিযান। গ্রুপের বাকি দু’দল ২০০৪ ও ২০০৬-এর চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান এবং স্কটল্যান্ড। ২১ জানুয়ারি স্কটল্যান্ড ও ২৪ জানুয়ারি পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ বাংলাদেশের। ‘বি’ গ্রুপে আছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড, উইন্ডিজ ও নবাগত নাইজেরিয়া। আর ‘এ’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে থাকছে অপর নবাগত দল ইস্ট এশিয়া প্যাসিফিক থেকে উঠে আসা জাপান। চার গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে দল যাবে সুপার লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে। বাকি দলগুলো খেলবে প্লেট পর্বে।

সর্বোচ্চ চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত গত কয়েকবারের মতো এবারও ফেবারিট। তাদের সঙ্গে ফেবারিট তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া দুবার শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান আর একবার করে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উইন্ডিজ। আসরে জয়ের দিক থেকেও এগিয়ে আছে ভারত। মোট ৭৭ ম্যাচ খেলে তারা জিতেছে ৫৮টি। সমান ৫৩ জয় নিয়ে পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান। এছাড়া উইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও টুর্নামেন্টে নিজেদের হারের চেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছে।

টুর্নামেন্টে পা রাখা ফেবারিটদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ফর্মে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০১৮ সালে সর্বশেষ টুর্নামেন্ট জেতে তারা। এরপর উঠে আসা ভারতের নতুন অনূর্ধ্ব-১৯ দলটি ওই বছর থেকে এই টুর্নামেন্টের আগ পর্যন্ত একটি যুব সিরিজও হারেনি। আর মোট ৩১ ম্যাচের ২২টিতে জিতেছে তারা। আসরের আগে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই হওয়া চারদেশীয় যুব সিরিজেও চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। টুর্নামেন্টের বাকি তিন দল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে।

ডাক হর্স বাংলাদেশ

ভারতের পর সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করছে বাংলাদেশ। তাই টুর্নামেন্টের ডাক হর্স বলা হচ্ছে বাংলাদেশকে। অসাধারণ কিছু তরুণ প্রতিভায় ভরপুর টাইগার যুব দল গত দুই বছরে খেলা ৩০ ম্যাচের ১৮টিতে জিতেছে। এই আসরে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে তৃতীয় সেরা জয়-পরাজয় পার্থক্য বাংলাদেশেরই। অস্ট্রেলিয়া গত দুই বছরে খুব কমসংখ্যক ম্যাচ খেলেছে। এছাড়া পাকিস্তান একমাত্র দল যাদের গত দুই বছরে হেরে যাওয়া ম্যাচের চেয়ে জয়ের পরিমাণ বেশি। তবে অবশ্যই ভারত ও বাংলাদেশের চেয়ে কম। শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড চার দলেরই গত দুই বছরে জয়ের চেয়ে হারের পাল্লা বেশি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা সাফল্য ২০১৬ সালে তৃতীয় হওয়া। এই প্রথম সুপার লিগ পর্বে ওঠে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের টুর্নামেন্টটি অবশ্য স্মরণীয় করে রাখতে পারেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছিল তারা। তবে টুর্নামেন্ট সেরা হন বাংলাদেশ যুব দল অধিনায়ক। এর আগে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৯৮, ২০০৪, ২০১০, ২০১৪ সালে প্লেট চ্যাম্পিয়ন হওয়া। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একটি রেকর্ড এখনো বাংলাদেশের দখলে। ২০০৪-এ  নিজেদের মাঠে আসরটিতে ২২ উইকেট নিয়েছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। যুব বিশ্বকাপের কোনো আসরে কোনো বোলার এত উইকেট পাননি।

ফর্মে আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

দারুণ ফর্মে থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর রান সংগ্রাহকদের তালিকার সেরা দশে সর্বোচ্চ চারজন বাংলাদেশি। গত দুই বছরে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তৌহিদ হৃদয়। গত আইপিএল নিলামে ঝড় তুলে দেওয়া ভারতীয় তরুণ যাশভি জয়সালের চেয়ে অনেক এগিয়ে হৃদয়। এই তরুণ গত দুই বছরে ২৭ ম্যাচে করেছেন ১১৪৪ রান। মোট চারটি সেঞ্চুরি ও ৭টি ফিফটি আছে তার। এই সময়ে হাজার রান করা অপর ব্যাটসম্যানও বাংলাদেশের। মাহমুদুল হাসান জয় ২৫ ম্যাচে ঠিক ১০০০ রান করেছেন তিন সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে। তালিকায় তিন নম্বরে জয়সাল। ২১ ম্যাচে ৯৮৬ রান তার। সেরা দশে থাকা বাকি দুই বাংলাদেশির মধ্যে ২৭ ম্যাচে ৮৫২ রান নিয়ে ছয়ে আছেন তানজিদ হাসান। আর দশে অধিনায়ক আকবর আলী। ২৪ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৬২৭ রান।

বোলারদের তালিকাতেও জয়জয়কার বাংলাদেশের। সেরা দশের পাঁচজনই বাংলাদেশি। শীর্ষ দুইয়ে দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। শরিফুল ২২ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৫ উইকেট আর মৃত্যুঞ্জয় ২০ ম্যাচে ৩৪। চারে থাকা মিডিয়াম পেসার তানজিম হাসান সাকিব ১৬ ম্যাচে নিয়েছেন ২৮ উইকেট। এ ছাড়া পঞ্চম অবস্থানে থাকা বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান ২৫ ম্যাচে নেন ২৬ উইকেট আর নবম অবস্থানে থাকা অফস্পিনার শামিম হোসেন ১২ ম্যাচে নেন ২২ উইকেট। 

ব্যাটিং-বোলিং দুই দিকেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ছড়াছড়ি স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ২০১৬ সালে তৃতীয় হওয়ার সাফল্যটা ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি এই দলটি?