প্রশাসনের অভিযানে বন্ধের ঠিক এক দিন পর গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার দোহার উপজেলার লটাখোলা সেতুর সামনে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছে বালুখেকোরা। গত বুধবার অভিযান চালিয়ে লটাখোলা খালে বালু কাটা বন্ধ করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। ধ্বংস করা হয় একাধিক ড্রেজার ও পাইপ। কিন্তু এ ঘটনার ঠিক এক দিন পরই শুক্রবার সকাল থেকে মহাসমারোহে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে স্থানটিতে।
সরেজমিন পরিদর্শনে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় সুজন, তোতা মাদবর, ইলিয়াস মোল্লা, মো. আকতারসহ কয়েকজন ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। শ্রমিকরা জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় সবাইকে ম্যানেজ করেই ফের বালু কাটা শুরু করেছে তারা। সেই বিশেষ ব্যবস্থা কী জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আপনারা বোঝেন কেন সব বলা যাবে না।
জানা যায়, প্রতিবছরই উপজেলা প্রশাসন ও থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে চর লটাখোলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর শাখা খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু তুলে বিক্রি করে আসছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। স্থানীয়রা বাধা দিলেও বালুখেকোরা তাতে কর্ণপাত করে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর এই স্থানে বালু কাটা নিয়ে চলে চোর-পুলিশ খেলা। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনে নদী তীরবর্তী বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু আবার শুরু করেছে সেটা আমাদের জানা নেই। এবার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।