রাবাদার শাস্তির সমালোচনায় প্রোটিয়া কোচ বাউচার

কাগিসো রাবাদার উদযাপনটা অতিরিক্ত ছিল কি-না তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। চলমান পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের প্রথম দিন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটকে আউট করে তার নাকের ডগায় উদযাপন করেন রাবাদা। এ সময় উইকেটের দিকে তার মুখ নিচু ছিল। রুটের দিকে তাকাননি। অনেক ক্রিকেট সমালোচকও এর মধ্যে কোনো অন্যায় খুঁজে পাচ্ছেন না। অথচ ম্যাচ রেফারি জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার অ্যান্ডি পাইক্রফট একটি ডিমেরিটস পয়েন্ট দেন রাবাদাকে। দু’বছরের মধ্যে সব মিলিয়ে ৪ ডিমেরিট পয়েন্টের জন্য এক টেস্ট ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। তাই ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু সিরিজের চতুর্থ অর্থাৎ শেষ টেস্ট খেলতে পারবেন না প্রোটিয়াদের নাম্বার ওয়ান বোলার। এটা স্বাগতিকদের জন্য বড় একটা ধাক্কা। দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন কোচ মার্ক বাউচার দলের সেরা পেসারের শাস্তির ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

ক্রিকেটে পেস বোলারদের সহজাত আগ্রাসী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে বাউচার জানিয়েছেন রাবাদা অন্যায় কিছু করেছে বলে তার মনে হয়নি, ‘সত্যি বলতে আপনি একেবারে আগ্রাসনমুক্ত টেস্ট ক্রিকেট দেখতে চাইবেন না। দুটি দল পরস্পরের বিপক্ষে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলছিল। পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। এমন অবস্থায় আবেগের উদগিরণ হতেই পারে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৪৭ টেস্ট খেলা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আরও বলেন, ‘আইসিসির অবস্থা আমি বুঝতে পারছি। তবে আমি আশা করব তাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে। কারণ তারা নিশ্চয়ই আবেগহীন ক্রিকেট দেখতে চায় না। আমার এখনো মনে হয় ক্রিকেটের বিরাট একটা অংশ জুড়ে আছে আবেগ।’ বাউচার জনিয়েছেন, তিনি মনে করেন না যে রাবাদার উদযাপনের মধ্যে কোনো ভুল ছিল ‘সব ডিমেরিটস পয়েন্ট নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমি ভাবছি কেন এটা দেওয়া হলো। ভাবতে কষ্ট হচ্ছে, কারণ রাবাদা তার নিজের জায়গায় ছিল। এমনকি ব্যাটসম্যানের দিকে সে তাকায়ওনি। অথচ ম্যাচ রেফারি (অ্যান্ডি পাইক্রফট) শাস্তির ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেন। তার চোখে এটা লঘু অপরাধ। লেভেল ওয়ানের মধ্যে পড়ে। অন্য সময় হলে এটা ব্যাপার ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা হলো আগের ডিমেরিট পয়েন্টের জন্য সে পরের টেস্টে খেলতে পারবে না।’

আগের অপরাধ ধরে রাবাদার মোট চারটি ডিমেরিট হয়ে যাওয়ায় ওয়ান্ডারার্সে পরের টেস্টে খেলতে পারবেন না। শাস্তি নিয়ে তাই সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাবাদার আচরণে অশালীন কিছু ছিল না। তাই টেস্ট থেকে তাকে নির্বাসিত করা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সাবেক দুই ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন ও নাসের হুসেইন ম্যাচ রেফারির শাস্তির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ভন বলেছেন, ‘একেবারেই হঠকারী সিদ্ধান্ত।’ নাসের হুসেইন বলেছেন, ‘এটা রীতিমতো লঘুপাপে গুরুদণ্ড। ওয়ান্ডারার্সে পরের টেস্টে রাবাদার না থাকা ক্রিকেটের ক্ষতি।’এমনটা মনে করেন মার্ক বাউচারও। ওয়ান্ডারার্সে রাবাদার বিশেষ কার্যকারিতার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘সে বিশ্বমানের পারফরমার। বিশেষভাবে ওয়ান্ডারার্সে সে বিশেষভাবে কার্যকর। আমাদের জন্য তার না থাকাটা খুব হতাশাজনক।’ রাবাদাও যে এটা নিয়ে হতাশ সেটাও জানাতে ভোলেননি বাউচার, ‘কেজি (কাগিসো রাবাদা একজন টিমম্যান। এটা (চতুর্থ টেস্টে না খেলতে পারা নিয়ে) সে খুব হতাশ। এই ব্যাপারটাই (অন্যায্য শাস্তি) আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই।’

রাবাদার আগের ৩ ডিমেরিট পয়েন্ট যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তার সবকটিই এই পোর্ট এলিজাবেথেই। ২০১৮’র ফেব্রুয়ারি এক ওয়ানডেতে ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে আউট করে ‘উসকানিমূলক ভাষা’ ব্যবহারের জন্য প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয় তাকে। এক মাস পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই টেস্টে দুটি ঘটনা ঘটেছিল, যা সিরিজের বাকি অংশের জন্য প্রায় নিষিদ্ধই হয়ে গিয়েছিলেন রাবাদা। ডেভিড ওয়ার্নারের মুখের সামনে চিৎকার করেছিলেন এবং তারপর স্টিভেন স্মিথের কাঁধে ধাক্কা দিয়েছিলেন। এই অপরাধকে প্রথমে লেভেল-টু অপরাধ ধরা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে আবেদন করে দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষ আইনজীবী ডালি এমপোফুকে নিয়োগ দেয়। তিনি অপরাধটিকে লেভেল-এক-এ নামিয়ে আনতে সফল হন, যা রাবদাকে তখনকার মতো খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। তখন রাবাদা স্বীকার করেছিলেন, তার আক্রমণাত্মক আচরণ ‘থামানো দরকার’, কারণ তার জন্য দল হতাশ হচ্ছে। পরে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রাবদা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, তার ‘আবেগের উৎসাহ’ একজন বোলারের ডিএনএ’র একটি অংশ এবং কখনো কখনো তা বেশি হয়ে যায়, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এমন এক যুগে খেলছি যেখানে এই বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আপনাকে নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আপনি কী করছেন তা নিয়ে ভাবতে হবে।’