কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি

আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বিএনপি। ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুই সিটির প্রতিটি কেন্দ্রে তীক্ষ নজর রাখবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতা আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে যারা প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন তাদেরকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা ইভিএমে কেউ জাল ভোট দিতে গেলে তাদের শনাক্ত করতে পারেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এতদিন যে ভুল করেছে তা আর করবে না বলে আশা করছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন নিরপেক্ষ থাকেন। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তবে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। কারণ ইসি এখনো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করতে পারছে না।

ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। তারা সকাল থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নেওয়া, ভোট দেওয়ানো থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। ভোটকেন্দ্রের এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ইভিএমের জাল ভোট শনাক্ত করতে পারেন।

ইসির চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, দুই সিটিতে ভোটকেন্দ্র ২ হাজার ৪৬৮টি। নির্বাচনে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পক্ষ থেকে দুটি সমন্বয় কমিটি করা হয়েছে। উত্তরে সমন্বয় করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও দক্ষিণে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এর বাইরে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এসব কমিটি ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। অনিয়ম হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, দুই সিটির দুই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এজেন্টদের ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এজেন্টরা ইভিএমে জাল ভোটের বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, পুরান ঢাকার ঢাকাইয়ারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। কারণ এবার আমি একমাত্র ঢাকাইয়া প্রার্থী। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী তো পুরান ঢাকার বাসিন্দা নন। তাই ঢাকাইরা জোট বেঁধেছে আমার জন্য। তাদেরকে কোনো শক্তি বাধা দিতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমি সব সময় সতর্ক অবস্থানে থাকব। এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে যাব। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনিয়মের চেষ্টা করলে তা ঢাকাইয়াদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করব। প্রয়োজনে বাবার মতো রাজপথে রক্ত দেব। তবুও কোনো ছাড় নয়। কারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বিগত ৯ বছর ধরে। তারা মুখিয়ে আছেন তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য। জনগণের শক্তির কাছে কোনো শক্তি টিকবে না।