বাগেরহাটের চিতলমারীতে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর একদিন বয়সী ছেলে সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে রীতিমতো ভিড় জমে গেছে। থানা থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবজাতকের পিতার দাবি নিয়ে এখনো কেউ আসেননি বা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে হিজলা গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মরিয়ম বেগম নামের আরেক নারী নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন। সমাজসেবা অফিস মা ও শিশুর চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার ভোরে উপজেলার বাখরগঞ্জ বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে ওই নারী প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। স্থানীয় সাড়েচারানী গ্রামেরা মোঃ ফারুক খানের স্ত্রী জাহানারা বেগম তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ নবজাতক ও মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ মামুন হাসান জানান, নবজাতক ও মা এখন সুস্থ আছেন। নারী বিভাগের ১ নং বেডে তাদের পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধানের জন্য অতিরিক্ত নার্স নিয়োগ করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলার শিশু কল্যাণ বোর্ড থেকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নবজাতকের নিরাপদ জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হবে। যে কেউ চাইলেই নবজাতককে নিতে পারবেন না।
‘বাখরগঞ্জে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি,’ জানিয়ে চিতলমারী থানার ওসি মীর শরীফুল হক বলেন, ‘অনেকেই এই বাচ্চা গ্রহণ করার জন্য হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছে। বাচ্চা ও বাচ্চার মায়ের নিরাপত্তার জন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’