ম্যারাথন তর্ক-বিতর্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের শুরুতে নতুন তথ্যপ্রমাণ হাজিরের চেষ্টায় ডেমোক্র্যাটদের কয়েকটি প্রস্তাব রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট খারিজ করে দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। আরও নথি ও তথ্য হাজিরে গত মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটদের তিনটি প্রস্তাব সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল প্রেসিডেন্টের অভিশংসন মামলায় শুনানির সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করলেও দলীয় সাংসদদের চাপের মুখে সেখান থেকে পিছু হটেছেন। অভিশংসন শুনানির অনুমোদন দিলেও শেষ পর্যন্ত সিনেটে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ট্রাম্পকে অপসারণে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ১০০ জন সিনেটরের মধ্যে ৬৭ জনকে অভিযোগের পক্ষে ভোট দিতে হবে। তবে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেননা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫৩টি আসন রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে।
সিনেটে অভিশংসন সংক্রান্ত শুনানির অনুমোদনকে রিপাবলিকানদের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে দেখছে আলজাজিরা। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যকার ফাটল বা বিবাদের বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। এছাড়া ২০২০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের বছর ঐতিহাসিক এ অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সচেতন নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্পের অভিশংসন প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাডাম। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ আমেরিকান বিশ্বাস করে সিনেট হবে নিরপেক্ষ’। তিনি উপযুক্ত বিচারক হিসেবে সিনেটরদের কাজ করার আহ্বান জানান। শুনানিতে ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ তুলে ধরেন অ্যাডাম। সেগুলোতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, সংবিধান তাকে যা খুশি করার ক্ষমতা দিয়েছে। তার বিচারে যেসব কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেবেন তাদের জরিমানা করা হবে।
ডেমোক্র্যাট নেতা বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার নামে ট্রাম্প তার আচরণবিধি লঙ্ঘনের ভয়ংকর সব প্রমাণ আড়াল করতে চান। প্রশ্ন হলো, আপনারা কি তা করতে দেবেন?’ সাক্ষ্যের উপসংহারে তিনি বলেন, ‘সত্য উন্মোচিত হবেই। প্রশ্ন হলো তা কি সময়মতো আসবে?’
এছাড়া ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে অভিশংসনের বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণেরও দাবি জানানো হয়। প্রক্রিয়া অনুসারে শুনানিতে সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু প্রথম দিনের শুনানিতে কোনো সাক্ষীকে ডাকা হয়নি। তবে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর সিনেট বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার ঘোষণা দেয়, যাকে ডেমোক্র্যাটরা আপাত জয় হিসেবে দেখছেন।
বিবিসি বলছে, বিচার পদ্ধতি নিয়ে সামনের দিনগুলোতেও সিনেটরদের মধ্যে এ ধরনের দ্বন্দ্ব দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা উচ্চকক্ষের এ বিচারে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনসহ ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের হাজির করতে চাইলেও রিপাবলিকানরা নতুন সাক্ষী ও নথি নিয়ে বিতর্ক শুনানির পরবর্তী পর্যায় পর্যন্ত স্থগিত রাখতে চায়।
গতকালের শুনানির সময় ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন না। তিনি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। দাভোসে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি তার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের আনীত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অভিশংসন শুনানির মুখে পড়া তৃতীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া বিলটি অসাংবিধানিক। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তারা এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেছে।
এর আগে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে এ সংক্রান্ত বিল পাস হয়। তবে সিনেটে ট্রাম্পের নিজ দল ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ থাকায় শুরুতেই সেখানে এ নিয়ে বিপত্তি বাধে।